আত্মত্যাগের মহিমায় অন্যরকম আবহে এল খুশির ঈদ

জাতীয়

ভয়েস টাইমস ডেস্ক: ভিন্ন আবহে ও অন্যরকম পরিবেশে আজ শনিবার ১০ জিলহজ উদযাপিত হয়েছে ঈদুল আজহা। আমাদের দেশে এই ঈদ কোরবানির ঈদ নামেই পরিচিত।করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর কারণে ঈদের আমেজে ভিন্নতা দেখা গেছে। হাত মেলানো ও কোলাকুলি করতে মানা।আনন্দ প্রকাশে জড়িয়ে ধরা নেই,নেই ঈদগাহে বড় ঈদের জামাত।এদিকে দেশের ৩৬টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি থাকার কারণে ঈদের আনন্দে ভাটা পড়েছে। সবমিলিয়ে এবারের ঈদ আনন্দ-বেদনার।

করোনা মহামারির মধ্যে গত ঈদে (ঈদুল ফিতর) চিরচেনা উৎসব চোখে পড়েনি। তবে এবারের চিত্র গত বারের তুলনায় ভিন্ন। শেষ মুহূর্তে রাজধানীর পশুর হাট, শপিংমল, বাজারে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

ঈদুল আজহা আসে আত্মত্যাগের মহিমা নিয়ে। আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান প্রত্যেক নর-নারীর জন্য এই ঈদে পশু কোরবানি করা ওয়াজিব। আমাদের দেশে গরু ও ছাগলই কোরবানি করা হয় বেশি। অল্প কিছু মহিষ, ভেড়া, উট-দুম্বাও কোরবানি করা হয়। ধর্মীয় বিধান অনুসারে ঈদের দুই দিন পর অর্থাৎ ১১ ও ১২ জিলহজ তারিখেও কোরবানি করা যায়।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেছেন।

মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য তাঁর উদ্দেশে পশু কোরবানির ভেতর দিয়ে নিজেদের ভেতরের পশুত্ব ও লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষকে কোরবানি করাই এই ঈদের মূল তাৎপর্য। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর প্রাণপ্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে উদ্যত হয়েছিলেন। তবে আল্লাহপাকের কুদরতে ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়। ঈদের দিন সকালে ঈদগাহে দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজের খুতবায় খতিবরা এই ঘটনার বয়ান দেন এবং কোরবানির তাৎপর্য তুলে ধরেন। তবে এবার আগেই সরকারিভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য ঈদগাহে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে না। মসজিদগুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। গত ঈদুল ফিতরেও ঈদগাহে নামাজের ব্যবস্থা করা হয়নি।

কোরবানির ঈদের আগে আগে পশু কেনা, তার পরিচর্যা করার মধ্য দিয়ে যে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়, শহরের দৃশ্যপটে এবার তা খুব একটা দেখা যায়নি।

গত ৩১ মে থেকে লকডাউন উঠে যাওয়ার পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাস-ট্রেন-লঞ্চসহ সব যানবাহন চালু হয়েছে। তবে নিরাপদ থাকতে অনেকে ঈদে বাড়ি যাওয়া থেকে বিরত থেকেছেন। ফলে বরাবর বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও সদরঘাটে ঈদের সপ্তাহখানেক আগে থেকে ব্যাগ-বোঁচকা নিয়ে যে বিপুল জনস্রোত দেখা যায়, শেষ দিন (আজ) ছাড়া সেই দৃশ্য এবার ছিল না। এসব মিলিয়েই এক অন্য রকম কোরবানির ঈদ এসেছে এবার।