আল্লামা আহমদ শফীর ধূম্রজাল সৃষ্টি হওয়া বিবৃতিতে বেফাক মহাসচিবকে নির্দোষ দাবী

সংবাদ

ভয়েস টাইমস: বেফাকের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুসের ফাঁস হওয়া ফোনালাপকে কেন্দ্র করে তুমুল সমালোচনা হচ্ছে কওমী অঙ্গনে।বিভিন্ন অনিয়মের কারণে অভিযোগের তীর মাওলানা আব্দুল কুদ্দুসের দিকে।কওমী মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকরা বেফাক মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুসের পদত্যাগ দাবি করছেন জোরালোভাবে।

এমন পরিস্থিতিতে তুমুল সমালোচিত ও নানা অভিযোগে অভিযুক্ত মাওলানা আব্দুল কুদ্দুসকে নির্দোষ দাবি করেছেন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার সভাপতি আল্লামা আহমদ শফী।

বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের মহাসচিবের ফোনালাপ রেকর্ড, সামাজিক যােগাযােগ মাধ্যমে প্রচার এবং তার ওপর আরােপিত অনিয়মের বিষয়ে বেফাকের সভাপতি আল্লামা শাহ আহমদ শফী আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতি দিয়েছেন। তাতে তিনি বেফাক মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুছকে সম্পূর্ণ নির্দোষ মন্তব্য করেছেন।

আজ মঙ্গলবার বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের অফিসিয়াল পেজে বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতি আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন, সম্প্রতি বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সিনিয়র সহসভাপতি ও মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুছ সাহেব , যিনি গঠনতান্ত্রিক পদাধিকার বলে আল হাইয়াতুল উলইয়ারও কো-চেয়ারম্যান, তার অধীনস্থ কর্মকর্তার সাথে দাপ্তরিক বিষয়ে কৃত ফোনালাপ রেকর্ড করে, বিকৃত, খণ্ডিত ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে সামাজিক যােগাযােগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়।

এ বিষয়টি আমার গােচরে এলে আমি এর আদ্যোপান্ত তদন্ত, ব্যাখ্যা তলব করি। এ সবের ব্যাপারে কারণ দর্শানাে ও আত্মপক্ষ সমর্থনের নির্দেশ দেই। যার ফলে বেফাক মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুছ সাহেব নিজের কাজের ব্যাপারে ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি লিখিতভাবে আমার নিকট কারণ দর্শানাের পাশাপাশি আরােপিত বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করে নিজের ব্যাখ্যা দেন।

এসব বিচার-বিশ্লেষণ করে আমার কাছে এসব যৌক্তিক ও প্রয়ােজনীয় আলােচনা বলেই সাব্যস্ত হয়। তার ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য বলে প্রতীয়মান হয়। সুতরাং তার এই ফোনালাপ এবং কার্যক্রমকে কোনাে অন্যায় বা অনিয়ম বলে আখ্যায়িত করা যায়।

বিবৃতি তিনি আরও বলেন, আমি তার ব্যাখ্যা ও কারণ দর্শানােতে সন্তুষ্ট। গঠনতন্ত্র ও আইনের কোনাে ব্যত্যয় না হওয়ায় তাকে সম্পূর্ণ নির্দোষ মনে করছি। যেহেতু বেফাক একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান সেহেতু জাতীয় স্বার্থে এর সংরক্ষণ ও স্বার্থ রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। সাধারণভাবে কোন অসতর্কতার ভিত্তিতে বেফাকের স্বার্থ নষ্ট হয় এমন যেকোন আচরণ, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযােগ মাধ্যমে লেখালেখি থেকে বিরত থাকার জন্য আমি সবার প্রতি অনুরােধ করছি।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে নীতি নিয়ম মেনে নিজ কাজ ও আচরণ করার এবং এক ও নেক হয়ে থাকার তাওফীক দান করুন।

এদিকে,আল্লামা আহমদ শফীর বিবৃতিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চলছে নানা তীর্যক মন্তব্য। বয়োবৃদ্ধ আল্লামা আহমদ শফীকে ব্যবহার করে একটি চক্র দীর্ঘ থেকেই নানা অনিয়ম করছে।কওমী অঙ্গনের অনেকেই বলছেন,সেই চক্রই আল্লামা আহমদ শফীর নাম, স্বাক্ষর ও বেফাকের প্যাড ব্যবহার করে বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতেটি আল্লামা আহমদ শফীর নয় বলেও দাবি করেন অনেকে।বিবৃতি কেন্দ্র করে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছো।আল্লামা আহমদ শফীর একক বিবৃতিটি বেফাকের অফিসিয়াল পেজ থেকে প্রচার হলেও বিবৃতির প্যাড অফিসিয়াল নয়।প্রচার হওয়া বিবৃতির প্যাডে নানা অসঙ্গতি রয়েছে।

অন্যদিকে,আজ আল্লামা আহমদ শফীর শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে সকাল ১১ টায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল ভর্তি করা হয়।