ইবাদতের সুবর্ণ সময় মাহে রামাজানে মসজিদ উন্মুক্ত হোক

ইসলাম

মুহাম্মদ মাহবুবুল হক

আরবী বারো মাসের মধ্যে অনন্য তাত্‍পর্যপূর্ণ মাস রমজান। প্রতি বছরের ন্যায় সময়ের চাকা ঘুরে পূণ্যের স্রোতধারায় ভাসিয়ে দিতে মাহে রামাজানের আগমন হয়।

রামাজানুল মুবারক।ইবাদতের মৌসুম।মুসলমানরা আল্লাহ প্রেমে মশগুল থেকে ইবাদতে আত্মনিয়োগ করেন।ইবাদতের সাথে মসজিদের গভীর যোগসূত্র আছে। কিন্তু বৈশ্বিক দুর্যোগ করোনা ভাইরাসের কারণে আল্লাহর ঘর মসজিদে সীমিত পরিসরে নামাজ আদায় হচ্ছে।সরকারী এমন সিদ্ধান্তে মুসল্লীরা আহত হয়েছেন,ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন।

মসজিদ গমনে সরকারি বিধি-নিষেধের কারণে মুসল্লীদের মনমরা উদাসভাব চেহারায় ফুটে আছে,অন্তরে অতৃপ্তি লেগে আছে।সম্মিলিতভাবে মসজিদে যেতে না পারার মনোকষ্টে অনেকে নিরবে চোখের অশ্রু ফেলছেন।রমজান এলে মুসলমানদের ইবাদতের মাত্রা বাড়ে,মুসল্লীরা মুসজিদমুখী হন।অলস ও গাফেলরাও চৈতন্য ফিরে পায়।করোনা-লকডাউনেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে এদেশে মুসলমানরা মসজিদে যেতে চান।তাই মসজিদ উন্মুক্ত করার জোরালো দাবি এখন সবার মুখে মুখে।আমরা চাই সকল মুসল্লীদের জন্য মসজিদ উন্মুক্ত হোক।

মহিমান্বিত রামাজান আসে কল্যাণের বারিধারায় মুমিনের দেহ-মন সিক্ত করতে।গোনাহের স্তুপকে অগ্নিতে ভষ্ম করে ছাই করে দিতে হাজির হয় রামাযান ঈমানদারের দুয়ারে।রহমত,বরকত ও নাযাতের বার্তা নিয়ে প্রতি বছরই মুমিন জীবনে রামাযান আমাদের পরিশুদ্ধ করতে আগমন করে।

হযরত আবু হুরায়রা রা.বলেন,নবীজী স.বলেছেন,যখন রমজানের আগমন হয় তখন আকাশের দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করা হয়।জান্নাতের দ্বারসমূহ খুলে দেয়া হয়।জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়।শয়তানদের শিকলে আবদ্ধ করা হয়।রহমতের দরজা খুলে দেয়া হয়।
-(বুখারী,মুসলিম)

রামাযানকে স্বাগত জানাতে ঈমানদার ব্যক্তিরা রজব ও শাবান মাস থেকেই অপেক্ষমান থাকেন।রাসূল স.রমাযানের প্রাপ্তি ও পূণ্যের স্বাদ পেতে আবেগভরা হৃদয়ে দুআ করতেন ,‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজবা ও শাআবান ও বাল্লিগনা রামাযান’ অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ আমাদেরকে রজব ও শাবান মাসে বরকতে স্নাত করো ও রামাযানে আমাদের পৌঁছে দাও’। এজন্য মুসলমানরা এই দুআ পাঠ করে রমজানের জন্য প্রহর গুনতে থাকেন।পাপ মার্জনা ও জান্নাতের চিরন্তন সুখ- শান্তির অন্বেষায় ইবাদতে ডুবে থাকার খোরাক খুঁজে পান মুমিনরা রমজান মাসে।

রমজান আত্মশুদ্ধি ও ক্ষমাপ্রাপ্তির মাস।প্রিয় নবী স. বলেন,যে ব্যক্তি ঈমান সহকারে এবং কল্যাণ ও পূণ্য লাভের প্রত্যাশায় রমজান মাসে রোজা রাখে তার অতীতের সকল গুনাহ (সগীরা)ক্ষমা করা হবে,আর যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও ছাওয়াবের আকাংখায় রমজানের রজনী ইবাদতে মশগুল থাকবে তারও পূর্বের সমুদয় পাপ মার্জনা করা হবে।-(বুখারী,মুসলিম)

রমজান ধৈর্য ও সংযমের মাস।আল্লাহ প্রেমে মগ্ন থেকে সফলতা অর্জনের মাস।মাহে রমজান নানাবিদ কারণে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত।রমজানের শিক্ষা মানব জীবনে ব্যাপক।সৌহার্দ সম্প্রিতী,পরোপকার,সহানুভূতি,সহমর্মিতা ও সহিঞ্চুতার উত্‍সাহ ও দীক্ষা প্রদানে রমজানের ভূমিকা অগ্রগণ্য।রমজানের অত্যাবশ্যকীয় ফরজ বিধান হলো রোজ পালন করা।সওমের শাব্দিক অর্থ বিরত থাকা,চুপ থাকা,রক্ষা করা।আল্লামা জুরজানী র.এর ভাষ্যমতে শরীয়তের পরিভাষায় রোজার নিয়তে সুবহে সাদিক বা ভোরের আলো ফুটার পূর্ব মুহুর্ত থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও জৈবিক চাহিদা তথা সঙ্গম পরিহার করার নাম হলো রোজা।ইসলামের পাঁচটি খুটি-স্তম্ভের অন্যতম সিয়াম।মহাগ্রন্থ কুরআনে আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! ফরজ করা হয়েছে তোমাদের উপর রোজা,যেভাবে ফরজ করা হয়েছিলো তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর,যেন তোমরা খোদাভীরু হতে পার’ ।(সূরা বাকারা: ১৮৩)

কুরআনের আরেকটি আয়াতে বলা হয়েছে- “তোমাদের মধ্যে যারা রমজান মাসে উপস্থিত থাকে তথা রমজান মাস পায়,সে যেন সিয়াম সাধনা করে’ – সূরা বাকারা: ১৮৫।
তাই রামাজানুল মুবারকে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে আল্লাহ তাআর সন্তুষ্টি অর্জনে আমাদের আত্মনিয়োগ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *