ঐতিহ্য ঘেরা গুরুই গায়েবি মসজিদ

ফিচার

সাইফুল ইসলাম রিয়াদ : 

গুরুই ঐতিহাসিক শাহী জামে মসজিদ। কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলায় অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ এবং বাংলাদেশের অন্যতম একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। এটি নিকলী উপজেলার গুরুই গ্রামে অবস্থিত। অনেকে গায়েবি মসজিদ বলে চেনে। শত বছরের ঐতিহ্য ধারণ করে আজও দাঁড়িয়ে আছে মসজিদটি।

বছরের একটি সময়ে একে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে মেলা। মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসে উৎসুক জনতা। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সমবেত হয় একটি নির্দিষ্ট দিনে। হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ মেলার পরিবেশ খোঁজে পাওয়া যায় এখানে। মানুষের মাঝে দেখা মিলে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি।

গুরুই মসজিদটিতে মুঘল আমলের স্থাপত্যশিল্প ফুটে উঠেছে। মসজিদের গম্বুজের গোড়ায় একটি সরু ও লম্বা শিলালিপি রয়েছে। দেখতে বেশ নান্দনিক। নিখুঁত কারুকাজ। উন্নত বিশ্বের ডিজাইনারদের চোখ রীতিমত ভড়কে যাবার মত। খচিত শিলালিপি থেকে জানা যায় মসজিদটি ১৬৮০ সালে নির্মিত । প্রখর দৃষ্টিতে শিলালিপির গায়ে তাকালে সুলতান বারবাক শাহের নাম চোখে পড়ে।

মসজিদের ছাদে ওঠে দেখতে লাগলাম নয়নাভিরাম গম্বুজের সৌন্দর্য। মসজিদটি বর্গাকৃতির। ভেতর দিক থেকে দেয়ালের উচ্চতা ২২ ফুট ও বাইরের দিক থেকে ৩৫ ফুট। ৪ কোণে ৪টি অষ্টকোণাকৃতির মিনার আছে, যা উপরে উঠে রৌপ্য নির্মিত ছোট গম্বুজে শেষ হয়েছে।

মসজিদটিতে বাল্ব আকৃতির বড় গম্বুজটি জানান দেয় অতীতের কারিগরদের রুচি কতোটা আকর্ষণীয়।উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব দেয়ালে একটি করে তিনটি প্রবেশ পথ আছে। যার মধ্যে পূর্বের বা কেন্দ্রীয় প্রবেশ পথটি বড়। প্রধান প্রবেশ পথের উচ্চতা ৭ ফুট ৩ ইঞ্চি এবং প্রস্থ ৪ ফুট ৬ ইঞ্চি। পশ্চিম দেয়ালে তিনটি মেহরাব রয়েছে। মাঝের মেহরাবটি বাকিগুলোর চেয়ে বড়। মেহরাবগুলোতে সুন্দর টেরাকাটার কাজ আছে। এই মসজিদে সুলতানী আমলের স্থাপত্যশিল্পের প্রভাব যে কারো হৃদয় আন্দোলিত করবে।

ঐতিহ্য ঘেরা মসজিদটি আমি দেখেছি প্রফুল্লচিত্তে। দৃষ্টি থেমে যায় এর একেকটি সৃষ্টিশিল্পে। প্রতিটি ভাঁজে ভাঁজে হাতের স্পর্শে বিমোহিত হবার এক মন্ত্রই যেন গাঁথা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *