করোনায় দেশ ও জাতীর বহুমুখী সংকটে করণীয় কী?

ইসলাম

মুফতি সৈয়দ নাছির উদ্দিন আহমদ

প্রবৃত্তি বা খেয়াল খুশির অনুসরণ করার জন্য আল্লাহ পাক আমাদেরকে পৃথিবীতে পাঠাননি। তিনি বরং তাঁর নির্দেশিত পথে চলার জন্য জিন ও মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছেন।তিনি তাদেরকে জান্নাতের পথে আসতে আহ্বান জানিয়েছেন। খোদার ডাকে সাড়া না দিয়ে জান্নাতের পথ থেকে যারা সরে যাবে তাদের ধ্বংস অনিবার্য।

তাছাড়া আল্লাহ পাক মানুষের জীবন এবং মৃত্যু সৃষ্টির উদ্দেশ্য হচ্ছে, কে কর্মে সৎ ও আল্লাহর আনুগত্যশীল আর কে কর্মে অসৎ ও খোদাদ্রোহী হয়, তা যাচাই করা।

পার্থিব জীবনে মানুষকে বিভিন্ন বিপদাপদ ও সংকটের সম্মুখীন করে মহান আল্লাহ পাক তাদের পরীক্ষা নিতে চান । তিনি দেখতে চান কারা প্রকৃত মুমিন আর কারা আল্লাহর অবাধ্য বান্দা।

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ পাক এরশাদ করেন, আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করব । (বাকারা:১৫৫) অর্থাৎ আমি তোমাদেরকে যাচাই করে নেব।অনন্তর দেখব তোমরা ধৈর্য ধারণ কর কি না?)

তবে বিপদাপদ দ্বারা কিছু লোককে তাদের গুনাহের শাস্তি দেওয়া হয়।কিছু লোককে মর্যাদা বৃদ্ধি অথবা কাফফারার জন্য পরীক্ষা স্বরূপ বিপদে নিক্ষেপ করা হয়।উভয় ক্ষেত্রে বিপদ আপদের আকার একই রূপ হয়ে থাকে।পরীক্ষা রূপে যাদের উপর বিপদ পতিত হয় তারা এসবের সম্মুখীন হয়েও আল্লাহর প্রতি অধিক মনোযোগী,অধিক সতর্ক এবং তওবা ইস্তেগফারের প্রতি অধিক আগ্রহী হয়।পক্ষান্তরে যার অবস্থা এরূপ হয়না , বরং বিপদে পড়ে হা-হুতাশ করতে থাকে এবং পাপকর্মে অধিক উৎসাহী হয়,আল্লাহ্‌র স্মরণের ব্যাপারে গাফিলতি বৃদ্ধি হয়,তবে এই বিপদ তাদের উপর আল্লাহর গজব ও আজাবের নিদর্শন হিশেবে প্রেরিত হয়।

রব্বে কারিম বলেন, আল্লাহর দ্বীন মেনে নেওয়ার পর যারা সে সম্পর্কে বিতর্কে প্রবৃত্ত হয়, এ বিতর্ক তাদের পালনকর্তার কাছে বাতিল, তাদের প্রতি আল্লাহর গজব এবং তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর আযাব। (সূরা শূরা :১৬ )

যে সমস্ত বিপদাপদ ও সংকট পার্থিব জীবনে মানুষের উপর পরীক্ষা রূপে আরোপিত হয় সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো:

(১) শত্রুর ভয় দিয়ে পরীক্ষা; ব্যক্তিকে তার সম্পদ ও সম্মান ইত্যাদির ব্যাপারে শঙ্কা ও সংকটের মুখোমুখি করা হবে। দেখা যাবে সে আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ বা তারই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে কি না?

(২) ক্ষুধার মাধ্যমে পরীক্ষা; অর্থাৎ প্রয়োজন সত্ত্বেও সে হারাম ও অবৈধ সম্পদ উপার্জন থেকে নিজেকে আত্মরক্ষা করছে কি না ? সিয়াম পালনে অস্থির চঞ্চল হচ্ছে কি না ? ক্ষুধা-দারিদ্রতায় শঙ্কিত বা অধৈর্য হয়ে কোন অনৈতিক ক্রিয়াকর্মে সংযুক্ত হচ্ছে কী না ?

(৩) সম্পদ ধ্বংস করার মাধ্যমে পরীক্ষা; অর্থাৎ সে প্রাকৃতিক দুর্যোগ-দুর্বিপাকে সম্পদের ক্ষতি সাধিত বা সম্পদ চুরি হলে অথবা আগুন লেগে তার সম্পদ পুড়ে গেলে,সর্বক্ষেত্রে ধৈর্যধারণ করছে কি না ? সুদ-ঘুষ,আত্মসাৎ সহ অবৈধ বেচাকেনা এবং সম্পদ অর্জনের শরিয়ত পরিপন্থী যে কোনো উপায় বর্জন করছে কী না ? তা যাচাই করে দেখা হয়।

(৪) জীবন-মৃত্যু, রোগ-ব্যাধি এবং জিহাদের আঘাত প্রত্যাঘাতে পতিত হলে সে ধৈর্যশীল হচ্ছে কি না ?
(৫) ফল-ফসলের স্বল্পতা দিয়ে,সন্তান সন্ততি ও ব্যবসা বাণিজ্য, ক্ষেত-কৃষি ইত্যাদি লাভ ও উৎপাদন এবং সব ধরনের সুনাম সুখ্যাতির ক্ষতির মাধ্যমেও মুমিনবান্দার পরীক্ষা নেওয়া হয়।
এরূপ বিপর্যয়ের পরও আল্লাহ্‌র স্মরণ তার মধ্যে সৃষ্টি হয় কি না ?  স্বীয় অহংকার বা দাম্ভিকতা আর আমিত্ব তাকে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর অবাধ্যতার মাঝে লিপ্ত করে রাখে কি না ?মহান আল্লাহ পাক বান্দাকে পরীক্ষা করার লক্ষ্য হলো ফলাফল পৃথিবীবাসীর সামনে প্রকাশ করে দেওয়া। অন্যথায় এ বিষয়টিও যে মহান আল্লাহ সর্বদা বিদিত রয়েছেন,তা বলার অপেক্ষা রাখে না ।

উল্লেখ্য যে,পার্থিব বিপদাপদের মূলকারণ হল মানুষের গুণাহ ও কুকর্ম তন্মধ্যে শিরক ও কুফর সবচেয়ে বেশী মারাত্মক । এরপর অন্যান্য গুণাহ সমূহ আসে।

আল্লাহ পাক বলেন, তোমাদের উপর যেসব বিপদ
আপদ পতিত হয়,তা তোমাদের কর্মের ফল এবং তিনি তোমাদের অনেক গোনাহ ক্ষমা করে দেন।
[ সূরা শূরা:আয়াত ৩০ ]

কুুরআনে এরশাদ হয়েছে,স্থলে,জলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের কৃতকর্মের কারণে,আল্লাহ তাদেরকে তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান,যাতে তারা ফিরে আসে ।( সুরা রূম : ৪১)

আয়াতে বিপর্যয় বলতে দুর্ভিক্ষ, মহামারী, অগ্নিকাণ্ড ও পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার ঘটনাবলীর প্রাচুর্য,সব কিছু থেকে বরকত উঠে যাওয়া ইত্যাদি বিপদাপদ বুঝানো হয়েছে ।

বর্তমান (কোভিড১৯) করোনা ভাইরাস মানুষের উপর আরোপিত এটিও খোদা প্রদত্ত একটি পার্থিব বিপর্যয় । চীনের উহান শহর থেকে শুরু হওয়া একটি মরণ ব্যাধি ভাইরাস। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের ভাষ্যে এটি প্রাণঘাতী সংক্রামকরোগ।এর প্রাদুর্ভাব আজ সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বের হাজার হাজার মানুষ দৈনন্দিন করোনা উপসর্গ নিয়ে স্বীয় জীবনের ইতি টানছেন ।

লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতিদিন কোভিড১৯ করোনা ভাইরাস টেষ্টে পজেটিভ হচ্ছেন । অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর পথযাত্রী।ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যেও দেখা যাচ্ছে মহান আল্লাহর ফজল ও করমে অনেক করোনা রোগী সুস্থ হয়ে তারা তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন।

করোনা এটি শুধু সংক্রামক রোগই নয়,বরং মানুষের স্বাভাবিক জীবন চলনে এটি একটি আতঙ্কের নাম। করোনার আতঙ্কে মানব জাতির পার্থিব জীবন আজ বহুমুখী বিপর্যয়ের সম্মুখীন।রোগটি সংক্রামক বা ছোঁয়াচে হওয়ায় একে প্রতিরোধ করতে সমগ্র বিশ্বের রাষ্ট্র নায়করা সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন ব্যবস্থাকে লকডাউন দিয়ে রেখেছেন। দীর্ঘ ছয় মাসেরও অধিক সময় ধরে উক্ত ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব চলমান থাকায় ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক ও সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় জীবনের দূর্ভোগ দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ।

সমগ্র বিশ্বের উন্নতশীল দেশ যেমন; লন্ডন,আমেরিকা,কানাডা,ইতালি,আরব দেশ সহ এশিয়া উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক দূর্যোগের পাশাপাশি মানব জীবনের স্বাভাবিক পথ চলা আজ বিপর্যস্ত।স্বল্প/মধ্যবিত্ত আয়ের বাংলাদেশেও অর্থনৈতিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে করোনার বিরূপ প্রভাবের ফলে ।

বাংলাদেশে যেদিন থেকে করোনা প্রাদুর্ভাব ক্রিয়াশীল ধরা পড়ে এরপর থেকেই ক্রমাগত দেশের সবধরণের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা বন্ধ রাখা হয়। যেমন:- রেল-পথ,নৌ-পথ,আকাশ-পথ,সড়ক-পথ,কল-কারখানা,শপিংমল সহ ছোট বড় দোকান-পাট ইত্যাদি।যত ধরনের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান রয়েছে,এগুলোর লেন-দেন দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল । যার ফলে দেশের অর্থনৈতিক শক্তি প্রায় অনেকটাই দুর্বল হয়ে গেছে । বাড়ছে দেশের খেটেখাওয়া মানুষের দারিদ্রতা ও খাদ্য সংকটের ঝুঁকি।এসব আয়ের উৎসগুলোতে স্বাভাবিক পরিবেশ এখনো সৃষ্টি না হওয়ায় দেশের অর্থনীতিশক্তি আদৌ উন্নতি করা যাচ্ছে না ।

কারণ এসব অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা বর্তমানে সাময়িক চালু করা হলেও দীর্ঘদিন বন্ধের ফলে অর্থনীতির যে অবনতি হয়েছে তা অতি সহজে কেটে ওটার নয় ।

এদিকে করোনা সংক্রমণ দিনদিন বাড়ছে । আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলছে । দেশের করোনা পরিস্থিতি অবনতির দিকে এগুচ্ছে প্রতিনিয়ত । যার ফলে দেশে আবারো নতুন করে লকডাউন দেয়ার পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার ।এহেন অবস্থায়ও দেশের অর্থনৈতিক সংকটের নিরসন করার পূর্বেই করোনা দূর্ভোগ মুহূর্তে দেশ নতুন সঙ্কটের সম্মুখীন হতে চলছে জাতীয় সংসদে মাননীয় অর্থমন্ত্রী উত্থাপিত ও প্রস্তাবিত ২০২০-২০২১অর্থ বছরের রাষ্ট্রীয় বাজেটের কারণে।

প্রস্তাবিত রাষ্ট্রীয় বাজেট অপূরণীয় ও অপ্রত্যাশিত মনে করছেন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই বাজেটে নাগরিক সুবিধার বদলে কালো টাকাকে সাদা করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তারা।এর ফলে বৃদ্ধি পাবে দূর্নীতির সয়লাব ও সরকার দলীয় তৃণমূল থেকে উচ্চ পদস্থ নেতা কর্মীদের সুবিধা গ্রহণের সহজ উপায়।

বলা হচ্ছে,বর্তমান ঘোষিত বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারকে নতুন করে ঋণ গ্রহণ করতে হবে।অথচ পুরনো ঋণের যে সুদ এসেছে এগুলোও আদায়ে নাকি সাতটি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা যাবে এ পরিমাণ টাকার প্রয়োজন । এখন ভাবুন ঋণের পরিমাণ কত ?এখন আপনারাই বলুন এই বাজেট কী দেশ ও জাতির কল্যাণে সহায়ক হতে পারে ?

এসব অপ্রত্যাশিত,অপুরণীয় ও নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত বাজেটকে সুচিন্তিত ও বাস্তব সম্মত হিশেবে তৈরী করে নতুন ভাবে ঘোষণা করা সময়ের দাবী। যাতে এই সঙ্কট মুহূর্তে বাজেটটি যেন দেশ ও জাতির উপকারী হিশেবে রূপ নেয় ।
তাছাড়া স্বাস্থ্য খাতের দুর্বলতা ও অবহেলার পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার সংকটও দৈনন্দিন বেড়েই চলছে।করোনার আতঙ্কে আতঙ্কিত চিকিৎসকরা সুচিকিৎসা না দেওয়ায় স্বাস্থ্য খাত খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছে ।

চিকিৎসা খাতে সরকারের পক্ষ থেকে আদৌ কার্যকরী কোন ভূমিকা নেওয়া হচ্ছেনা।পাচ্ছেননা চিকিৎসকরা তাদের নিরাপত্তা সামগ্রী।চিকিৎসকদের সহায়তায় সরকার ব্যর্থ হয়েছে । স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সামগ্রী পর্যাপ্ত না পাওয়ায় ডাক্তাররা আজ রোগ সংক্রমণের ভয়ে চিকিৎসা সেবা থেকে রয়েছেন অনেক দুরে । জীবন সুরক্ষার ভয় চিকিৎসা দিতে সাহস করছেন না তারা । যার ফলে চিকিৎসা সেবা থেকে চিকিৎসকদের দুরত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রতিনিয়ত ।

আজ সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতাল,ক্লিনিক সহ যেকোন চিকিৎসালয়ে বিনা চিকিৎসা কিংবা অবহেলা জনিত কারণে সাধারণ রোগীদের জীবন হুমকির মুখে পড়েছে বেশী । করোনা রোগীরা তো জীবন সঙ্কট নিয়েই শ্বাস নিঃশ্বাস নিচ্ছেন বিনা চিকিৎসায় । হারাচ্ছেন মূল্যবান জীবন ।যদিও মৃত্যু তার সময় মত হয়েছে বা হবে কিন্তু ইসলাম জীবন বাচাতে চেষ্টা প্রচেষ্টা চালাতে গুরুত্বের সাথে হুকুম করেছে । তাই সুচিকিৎসা না পেয়ে কারো মৃত্যু হওয়া এটা খুবই পীড়াদায়ক ও দুঃখজনক বিষয় ।

চিকিৎসকদের এরকম ভয় ও মন-মানসিকতা দেশ ও জাতি কখনো প্রত্যাশা করেনি। বিশেষ করে করোনার এই সঙ্কটকালে ডাক্তারদের পক্ষ থেকে এমন অনুচিত আচরণ কারো কাম্য ছিলনা।তবে কিছু ডাক্তার রয়েছেন,যারা জীবনের ঝুঁকিনিয়েও সুচিকিৎসা দিতে রোগীদের পাশে আছেন।এই সংকট কালে অন্যসব ডাক্তারদেরকেও এগিয়ে আসা কর্তব্য ।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ যেভাবে জীবনবাজি রেখে তারা দেশের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব পালন করছেন । করোনার সংকট মুহূর্তে চিকিৎসকদের ভূমিকা তেমনি হোক দেশ ও জাতি এটাই প্রত্যাশা ও কামনা করে।তাই ডাক্তারদের উচিত অযথা ভীতিপ্রদ না হয়ে সুচিকিৎসা সেবা দিতে রোগীদের পাশে দাড়ানো। হতাশার বাণী না শুনিয়ে আশাকরি তারা এখন থেকে জাতিকে আশার আলো দেখাবেন । কারণ সীমানা সুরক্ষা করা যেমনি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরী দায়িত্ব।তেমনিভাবে সুচিকিৎসা দিয়ে মানুষের জীবন সুরক্ষার জন্য সব চেষ্টা প্রচেষ্টা করা ডাক্তারদের উপর জরুরী কর্তব্য ।

দীর্ঘ তিনমাসের অধিক সময় ধরে দেশের সকল শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে আছে। শিক্ষার্থীর শিক্ষা এবং মেধা বিকাশের সম্ভাবনা আদৌ অনিশ্চিত ।

দীর্ঘ ছুটিতে থাকা সব শিক্ষার্থীর মন-মানসিকতা আজ রয়েছে গৃহবন্দি হয়ে।এই দীর্ঘ অবসরতাকে শিক্ষার্থীরা কীভাবে কাটাচ্ছেন তা মহান আল্লাহ পাক এবং তারাই ভালো জানেন।কিন্তু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই যুুুগে চরম বাস্তবতা বলছে,অধিকাংশ শিক্ষার্থী লম্বা অবসরতাকে হয়তো অমূল্যায়ন করতেছেন । তাদের অনেকেই ফেসবুক,ইউটিউব,টিভি-স্যাটেলাইট ইত্যাদি ব্যবহার করে অযথা সময় পার করছেন ।

অনেকে পূর্বের চেয়ে বেশী এই অবসরতাকে অশ্লীলতা আর খারাপ সিনেমা দেখার পিছনে ব্যয় করছেন। তবে এগুলোকে জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। তাই মেধাবী শিক্ষার্থী অনেকেই এমন আছেন যারা এগুলোর মাধ্যমেও তাদের জ্ঞান চর্চার চেষ্টা প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন । বিশেষ করে বর্তমান জাগতিক শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে এটি করা সম্ভব।কারণ  প্রযুক্তির সাহায্যে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর সু ব্যবস্থা তাতে রয়েছে। তবে এরকম শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক কম । অধিকাংশ শিক্ষার্থী তাদের মূল্যবান এই অবসরতাকে অবহেলায় কাটাচ্ছেন মনে করি ।

বর্তমান করোনা দূর্ভোগে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘ ছুটিতে থাকায় জাগতিক শিক্ষা ব্যবস্থার চেয়েও অধিক বেশি ক্ষতির সম্মুখীন কওমী শিক্ষাব্যবস্থা । কারণ কওমী শিক্ষাব্যবস্থার মূল পদ্ধতি হচ্ছে শিক্ষক শিক্ষার্থীর মাঝে সরাসরি পাঠ দান ও গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষা দেয়া । কওমী প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় যেটি আজ সম্ভব হচ্ছেনা ।

এরকম পরিস্থিতি আরো দীর্ঘ হলে কওমী শিক্ষাব্যবস্থা চলতি বছরেরপুরোটা সময় চরম ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে । কারণ অন্যান্য শিক্ষাব্যবস্থা আর কওমী শিক্ষাব্যবস্থায় রয়েছে আকাশ পাতাল ব্যবধান । কওমী শিক্ষার্থীর মধ্যে সবচেয়ে বেশী ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে হিফজ বিভাগের ছাত্রদের ব্যাপারে ।

তাছাড়া কওমী শিক্ষকদের কিতাব মুতালাআর বিঘ্নতা ও মাসিক বেতন সঙ্কটও উল্লেখযোগ্য ।

তাই মানবিক চেষ্টা তদবির হিশেবে আমাদের করণীয় হল আগামী মাসের মধ্যেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়া । স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সতর্কতা অবলম্বন করে পরীক্ষামূলক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা । এতে অবনতির আশঙ্কা দেখা দিলে পরবর্তীতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার অগ্রীম পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি গ্রহণকরে রাখা । মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে সাহায্য প্রার্থনা করা ।

করোনা দুর্ভোগের এই মহা-বিপদ থেকে পরিত্রাণ পেতে আল্লাহর বর্ণিত নীতিমালা যথাযথ ভাবে পালন করি ।অর্থাৎ বিপদাপদে পতিত বান্দার করণীয় আমল হচ্ছে, সবর এবং নামাযের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা।

আল্লাহ পাক বলেন যারা বিপদাপদ ও বিপর্যয়ে পতিত হবে তখন তাদের বলা উচিত নিশ্চয় আমরা আল্লাহর।( তিনি আমাদের নিয়ে যা ইচ্ছা করতে পারেন ) এবং আমরা নিশ্চিতভাবে তার দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী ।

তাফসীরে বায়যাবীতে এসেছে শুধু মুখে ইন্না লিল্লাহি– পড়ার নাম সবর নয়,বরং মুখ ও মন দিয়ে পড়তে হবে। তাই বিপদে সবর করার জন্য মৌলিক তিনটি বিশ্বাস সহায়ক ।

প্রথমত : মানুষের সব দুঃখ-দুশ্চিন্তা,সকল বেদনা ও আক্ষেপ এবং সকল জ্বালার মূল কথা শুধু এতটুকু যে, সে তার প্রিয় বিষয়বস্তগুলোকে নিজস্ব সাব্যস্ত করে রেখেছে ।কিন্তু এই ব্যাপক বিভ্রান্তি হতে হৃদয়-মনকে মুক্ত করতে পারলে,তখন যেকোনো জিনিস যতই প্রিয় হোক না।কেন,তা তো বিন্দুমাত্র নিজের রইল না । অতএব তখন আর দুঃখকষ্ট,বিষণ্ণতা,হায় আফসোসের অবকাশ কোথায় ?

দ্বিতীয়ত: পৃথিবীর যে কোনো দুঃখ বেদনা যে কোনো মনঃকষ্ট এবং যে কোনো মর্মজ্বালা তা যতই বিস্তৃত ও গভীর হোক না কেন- এ সবই সাময়িক ও ক্ষণস্থায়ী । এর কোনোটাই অক্ষয় চিরন্তন নয় । কেননা এসব ছেড়ে অতি শীঘ্রই প্রকৃত মালিকের দরবারে হাজিরা দিতে হবে ।

তৃতীয়ত : সেখানে পৌছামাত্র সমুদয় বকেয়া উসুল হয়ে যাবে, সব হারানোর প্রাপ্তি ঘটবে, সকল বিচ্ছেদের অবসানে চির মিলন সূচিত হবে ।
মৌলিক বিশ্বাসের এ তিনটি ধারা যার হৃদয়ে যতখানি সুদৃঢ় হবে,পৃথিবীর বুকে সে তত পরিমাণ নিরাপত্তা ও স্থিরতা ভোগ করবে।

আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে সকল বিপদাপদ হতে সুরক্ষা রাখুন। কুরআন সুন্নাহ মোতাবেক জীবন যাপন ও বর্ণিত করণীয় আমলগুলোকে যথাযথ ভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন।আমীন।