কুরআন নাজিলের এই রামাজানে কুরআনের আলোকে জীবন গড়ুন 

সম্পাদকীয়

মুহাম্মদ মাহবুবুল হক: তাত্‍পর্যময় রমজানুল মুবারকেই মানবতার মুক্তির সনদ কুরআনুল কারীম অবতীর্ণ হয়।সত্য ও সুন্দরের মসৃণ পথে চলার জন্য আলোর দিশারী হিসাবে কুরআনকে আল্লাহ তাআলা লওহে মাহফুজ থেকে পৃথবীর আকাশে রমজানের অর্নিদিষ্ট রজনীতেই নাজিল করেন। এরপর ক্রমান্বয়ে তা অবতীর্ণ হয়।

কুরআনুল মাজিদে উল্লেখ আছে-‘রমজান মাসেই কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে,যা মানুষের জন্য পথের দিশারী ও সত্যপথের পথিকদের জন্য স্পষ্ট পথনির্দেশ এবং সত্য-মিথ্যা,ন্যায়-অন্যায়ের মধ্যে বিভাজনকারী’।-সূরা বাকারা: ১৮৫ ।

কুরআনুল কারীমের আরেকটি আয়াতে আল্লাহ বলেন-‘আমি শবে কদরে কুরআন নাযিল করেছি’-(সূরা কদর:০১)

রামাজানের শেষ দশদিনের যে কোন বেজোড় রাতে মহিমান্বিত শবে কদর হয়ে থাকে।

সহিহ বুখারীতে আছে নবীজী সা. বলেন,শবে কদর রমজানের শেষ দশকে অন্বেষণ করো।সহিহ মুসলিমের অপর বর্ণনায় শেষের বেজোড় রাতে অনুসন্ধানের কথা বিবৃত হয়েছে।

কুরআন শবে কদর বা রমজানের কোন একরাতে লৌহ মাহফুজ থেকে দুনিয়ার আকাশে নাযিল হয়।পরবর্তীতে জিব্রিলে আমিন ক্রমান্বয়ে প্রয়োজনমাফিক দীর্ঘ তেইশ বছরে নবীজীর স.উপর নাযিল করেন।শবে কদরে নাযিল করার আরো একটি মর্ম হতে পারে, কয়েকটি আয়াত অবতীর্ণ করে কুরআন নাযিলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

এ মাসের তাৎপর্য ও মহিমা এখানেই স্পষ্টরূপে ফুটে ওঠে।আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাবগুলো মানুষের জীবন চলার সংবিধান আর তা অবতীর্ণ হয়েছে এ মাসেই।

কুরআন অবতীর্ণ করার জন্য আল্লাহ তাআলা রমজান মাসকে নির্বাচন করেছেন।বরকতময় এ মাস এসব প্রেক্ষাপট বিবেচনা ও নানাবিদ কারণে অনন্য বৈশিষ্ট্যমন্ডিত।রমজান আমাদের কুরআনের আলোকে জীবন গঠনের বার্তা দেয়।জীবনবিধান হিসাবে কুরআনের আলোকে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশনা দেয়।শান্তিময় কল্যাণকর দেশ ও জাতি গড়তে একমাত্র কুরআনকেই সংবিধান হিসেবে গ্রহণ করা রামাজানের শিক্ষা।কুরআন অধ্যয়ন,অনুশীলন ও কুরআনের অনুশাসন, অনুসরণ করলেই আমাদের ইহকাল-পরকাল সফল ও সুন্দর হবে।

পূর্ববর্তী নবীগণের উপর আসমানী গ্রন্থ তাওরাত, যবুর,ইঞ্জিল -এই মোবারক মাসেই নাযিল হয়। প্রবৃত্তির কামনা,পার্থিব ভোগ- বিলাস ত্যাগ করে মুমিনরা সংযমের নাজরানা পেশ করেন স্রষ্টার সকাশে মহিমাময় এ মাসে।রমজানের প্রতিটা মূহুর্ত প্রচুর পরিমাণে নামাজ,কুরআন তেলাওয়াত,যিকিরসহ প্রভৃতি নেক কর্মে আত্মনিয়োগ হওয়া বাঞ্ছনীয়।কেননা রাসূল স. ও সাহাবায়ে কেরাম রা.রমজানে অন্যান্য মাসের তুলনায় অধিকহারে নিজেদের দৈনন্দিন নেক আমল বৃদ্ধি করতেন।অনেকেই রমজানে বিনিদ্র রজনী জায়নামাজেই কাটাতেন। এ ফজিলতপূর্ণ মাসে আল্লাহর নৈকট্যার্জন ও প্রিয়ভাজনদের তালিকায় নাম লিপিবদ্ধ করানোর সূবর্ণ সুযোগ থাকে ঈমানদারগণের।রমজান আল্লাহ কর্তৃক বান্দাদের জন্য বোনাস ও অফারের মাস।রমজানের নফল ও পূণ্যকর্ম অন্য মাসের ফরজ তুল্য।প্রতিদান ও ছাওয়াবের ক্ষেত্রে রমজানের একটি ফরজ ইবাদত অন্য মাসের সত্তরটি ফরজ ইবাদতের মর্যাদাতুল্য।

কুরআন নাজিলের এ মাসে বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত করা কল্যাণ বয়ে আনবে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ আছে, তিনি বলেছেন, ‘রমজান মাসের প্রতি রাতে ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) নবী করিম (সা.)-এর খেদমতে হাজির হতেন এবং তাঁরা উভয়ই কোরআন তিলাওয়াত করে একে অপরকে শোনাতেন।’ -(বুখারি)

কুরআন তেলাওয়াতের প্রচুর ফজিলত বর্ণিত হয়েছে হাদীসের পাতায় পাতায়। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআনের একটি অক্ষর পাঠ করে, সে একটি নেকি পায়, আর প্রত্যেকটি নেকি ১০টি নেকির সমান।’ -(তিরমিজি)

কুরআন তেলাওয়াতে অন্তর পরিচ্ছন্ন ও কোমল হয়।নবীজী স. বলেছেন, ‘অন্তরের কলুষতা পরিষ্কার করার উপায় হলো বেশি বেশি মৃত্যুকে স্মরণ করা এবং কুরআন তিলাওয়াত করা।’ -(মিশকাত)

মাহে রমজানে বেশি বেশি পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করা নফল ইবাদতের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম ইবাদত। এ জন্য মাহে রমজানে রোজাদার ব্যক্তির বেশি বেশি পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করা উচিত।কুরআনের আলোকে জীবন গঠন করা উচিত।

সম্পাদক: ভয়েসটাইমস টুয়েন্টিফোর ডটকম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *