খাস কমিটির মিটিং নিয়ে বেফাকের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রয়ক ও আনাস মাদানীর ফোনালাপ ফাঁস (ভিডিওসহ)

সোশ্যাল মিডিয়া

জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গত কয়েকদিন যাবত বেফাকুল মাদারিসিলি আরাবিয়া বাংলাদেশ-বেফাকের শীর্ষ কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যাক্তিদের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির ফোনালাপ ফাঁস হচ্ছে। এসব ফোনালাপে দেখা যাচ্ছে এক পাশে বেফাকরে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মুফতী আবু ইউসুফ।

গতকাল ১১ জুলাই শনিবার রাতে Usama Muahammad নামের ফেইসবুক আইডি থেকে পোস্ট করা ফাঁস হওয়া ফোনালাপটিতে  বেফাকের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রয়ক মাওলানা আবু ইউসুফের সাথে খাস কমিটির মিটিং নিয়ে কথা বলছেন বেফাক চেয়ারম্যান আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সাহেবজাদা ও বেফাকের সহ সভাপতি ও হাটহাজারী জামিয়ার সহকারী শিক্ষাসচিব মাওলানা আনাস মাদানী।

ভয়েসটাইমস’এর পাঠকদের সুবিধার্থে নিম্নে হুবহু কথোপকথন তুলে ধরা হলো-

আনাস মাদানী : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ!

আবু ইউসুফ : ভাইজান! কেমন আছেন

আনাস মাদানী : জ্বী আছি আলহামদুলিল্লাহ। আপনি কেমন আছেন?

আবু ইউসুফ : জ্বী! খাস কমিটির মিটিং চলতেছে। ভাইজন তো আসেন না, আসবেন না মনে হয়।

আনাস মাদানী : আজ আমাদের পরীক্ষা শেষে হইতেছে তো। মাদরাসা বন্ধ হবে। এখানে ঝামেলা।

আবু ইউসুফ : ভাইজান এখানে খুব চদর-বদর করতেছে মুফতি ওয়াক্কাস, আনোয়ার শাহ সাব ও রাজু আর চৌধুরী যোবায়ের। এরা ষড়যন্ত্র চক্রান্ত করতেছে হাটহাজারীকে মাইনাস করার জন্য আর বাজানকে (আল্লামা শফী) ক্ষতি করার জন্য খুব ষড়যন্ত্র করতেছে। আপনিতো মিটিংয়ে নাই, আমার যাওয়ার অনুমতিও নাই। আমি শুনছি হুজুরের উপর হাটহাজারী মাদরাসার উপর। আপনি কি একটা কি লেখা দিছেন তার উপর। এটা তারা খুব তোলপাড় করতেছে। বুঝঝেন।

আনাস মাদানী : আমি তো কোন লেখা দেই নাই কোথাও।

আবু ইউসুফ : কে জানি কি বলল, তারপরে এখন মহাসচিব, হাটহাজারী হুজুর মানে আব্বাজান, আমি আপনি নুরুল আমীন এদেরকে এক সাইট করি কথাবার্তা বলে। মানি খুব ষড়যন্ত্র করতেছে, চক্রান্ত করতেছে।

আনাস মাদানী : আচ্ছা।

আবু ইউসুফ : খাস কমিটির আরো কয়েকটা আছে। এই খাস কমিটি যে আব্বাজানে বানাইছে, এটারে বাদ করে দিলে কি হয়? উনি যদি বলে দেয় খাস কমিটির কোন দরকার নেই। বস তাইলো এগুলো সবই বাদ হয়ে যায়। এগুলোর কথাও চলে যাবে। বা’জিকে বলে এটা করাই নিতে পারেন কি না, আমি বানাইছিলাম ফাইদার লাগি দেখি যে কান লাভ নাই।

আনাস মাদানী : জ্বী

আবু ইউসুফ : আশরাফ আলী সাব পক্ষে আছে। আশরাফ আলী সাব, নুরুল আমীন আব্দুল কুদ্দস তারা পক্ষে আছে।

আনাস মাদানী : ফজলুর হমান সাব যায় নাই?

আবু ইউসুফ : ফাজলুর রহমানকে দেখিনি। সে কোন কথাও বলে না।

আনাস মাদানী : নূরুল ইসলাম সাব যায় নাই?

আবু ইউসুফ : নূরুল ইসলাম সাব আসে নাই এখনো।

আনাস মাদানী : আচ্ছা।

আবু ইউসুফ : ফয়জুল্লাহও খাস কমিটিতে আছে। এসব ফায়দা নিবে কিছু যোবায়ের সাব আর ওই রাজু আর শাহ সাব, ওয়াক্কাস এরা এক গ্রুপে।

আনাস মাদানী : কাসেমী সাহেব আসছে?

আবু ইউসুফ : কাসেমী আজকে আসেনি। ওই খুব বিরোধিতা করছে। পরশু। খুব বিরোধিতা করে যাই আমারে যা্য়া ধরছে। আপনি কেন এদেরকে পরীক্ষার ফিস নিলেন? আমি ফিস নিবো না? উনারা পরীক্ষা দিবে। বাইরে কেন আপনি ফিস নিলেন। আমি কই আমার রেজুলেশন আছে। আমি রেজুলেশন দেখাইছি। আর তো আমারে ছারি দিছে। আমারে ওখানে ডেকে ছিলো মিটিংয়ে।

আনাস মাদানী : হুমম

আবু ইউসুফ : ২য় কথা ভাইজান আমার থাকতে মন চাইতেছে না। আমাকে আল্লাহর ওয়াস্তে এখান থেকে বিধায় দেন। আর মনে চাইতেছে না ভাইজান। আব্বাজানে প্রতিষ্ঠান দেখে আমি এখানে আছি। কত কষ্ট করি। কত পেপার পত্রিকা আমার বিরোদ্ধে লেখালেখি করতেছে। অরো কত কি!

আনাস মাদানী : ঠিক আছে দেখি ইনশাআল্লাহ! আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ!

আবু ইউসুফ : আচ্ছা। খাস কমিটিটা বাতিল করে দেন। দেই সব শেষ। ঠান্ডা অইযাইবো।

উল্লেখ্য, একই আইডি থেকে গত ১০ জুলাই রাতে বেফাকের মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দুস ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আবু ইউসুফের একটি ফোনালাপও ফাঁস করা হয়েছিলো।