গহরপুরের যুবকের নবীজীকে স. অবমাননা,অতঃপর…

সারাদেশ

ভয়েসটাইমস: অতিসম্প্রতি বালাগঞ্জের দেওয়ান বাজার ইউনিয়নের গহরপুরের শিওরখাল গ্রামের আব্দুল ওয়াহিদ চৌধুরীর ছেলে নিয়ামুল হ চৌধুরী নামের এক যুবক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে রাসূল সা. কে অপমান করে করা কমেন্ট ও ইসলামের ঐতিহাসিক সত্য কিছু বিষয়াবলির মনগড়া অপব্যখ্যা করে।

এ নিয়ে পুরো উপজেলা ও গহরপুর এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে।ধারণ করা হচ্ছিল এ নিয়ে এলাকায় যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত কোন ঘটনা ঘাটতে পারে।
ঘটনা জানাজানির পর এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করে।

খবর পেয়ে বালাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গাজী আতাউর রহমান তার বাড়িতে যান।তিনি গণমাধ্যমকে জানান, সে প্রায় ১০/১২ বছর থেকে বাড়িতে থাকেনা, ঢাকায় থাকে।

এদিকে এলাকার উত্তেজিত ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের শান্ত করতে গহরপুরের স্থানীয় উলামায়ে কেরাম ও যুব সমাজের একটি মিটিং হয় গতকাল (শুক্রবার) রাতে।মিটিংয়ে অভিযুক্ত যুবককে মুসলমানদের কাছে ধর্মানুভুতিতে আঘাত ও অমার্জনীয় অপরাধ করার জন্য নি:শর্ত ক্ষমা প্রার্থনা ও তাওবা করার আহবান জানানো হয়।

পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মিটিং থেকে মাওলানা আব্দুল কাইয়ূম হাজীপুরী, হাফিজ মাওলানা আতিকুর রহমান ও মাওলানা আবদুল কাদিরকে  বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়।

আজ শনিবার বিকালে স্থানীয় গহরপুর বাজারে এলাকার ধর্মপ্রাণ তৌহিদী জনতার প্রতিনিধি আলেমদের সাথে অভিযুক্ত যু্বকের বড় ভাই ফাতহুল হাসানাত চৌধুরী শিমুল এক বৈঠকে মিলিত হন।এসময় বালাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গাজী আতাউর রহমান ও এলাকার বিশিষ্ট মুরব্বী আব্দুল মালিক উপস্থিত ছিলেন।

তার আপন বড় ভাই, ফাতহুল হাসানাত চৌধুরী শিমুল বৈঠকে ক্ষমা চেয়ে বলেন, এর সাথে আমাদের পরিবারের দীর্ঘদিন থেকে কোন যোগাযোগ নেই, ধর্ম বিদ্বেষমূলক আচরণকারীর সাথে আমাদের যোগাযোগ থাকতে পারেনা,সে পথভ্রষ্ট ও বিপথগামী হয়ে গেছে।আমি তার হেদায়াত কামনা করি ও আপনাদের কাছে দোয়া চাই,আল্লাহ যেন,তাঁকে হেদায়ত দান করেন।

এদিকে সে গতকাল রাতে সে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে উল্লেখ করে, “সহজ সরল বিশ্বাসী আমার প্রিয়জনরা যারা ফেকহ, ফিতনা এইসবে কোনো সম্পর্ক নেই তাদের সহজসরল মনে আমি এইরকম কষ্ট দিলাম। নিজেকে এতো অপরাধী জীবনে আর কখনো মনে হয়নি। চরম জঘন্য, গর্হিত অন্যায় আমি করেছি।

আমার নবীপ্রেমী সহজসরল ভাইদের মনে আমি যে আঘাত করেছি তারজন্য আপনারা আমাকে হয়তো ক্ষমা করবেন কিন্তু আমি নিজেকে কখনো ক্ষমা করতে পারবো কিনা জানিনা।

জঘন্য গর্হিত অন্যায় করেছি আমি। হয়তো আমি আর আমার জন্মভূমিতে কখনোই ফিরে আসবোনা কিন্তু কোনো একদিন এক মুহুর্তের জন্যে হলেও আমার জন্মভূমির এই সহজসরল বিশ্বাসী মানুষগুলোর হৃদয়ে রক্তক্ষরণে কারণ আমি- এই আমি ছিলাম এই অনুশোচনা, পরিতাপ, অনুতাপ আমাকে সর্বত্র তাড়া করবে।”

আজ শনিবার রাতে ফেসবুকে “Niaamul H Chowdhury (নিয়ামুল হ চৌধুরী)” আইডি থেকে সে বলেছে, “আমি আমার কৃতকর্মের জন্য অত্যন্ত লজ্জিত এবং অনুতপ্ত। আমি সকলের কাছে আমার কৃতকর্মের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন এবং অনুধাবনের তাওফিক দান করুন। আমিন।”

স্থানীয় জনতা ও ফেসবুকে ওই যুবকের আইডি ঘাটাঘাটি করে জানা গেছে, অভিযুক্ত নিয়ামুল স্থানীয় এক স্কুল/ মাদরাসায় পড়াশোনাকালীন সময় থেকেই তার মনের মধ্যে ইসলাম ধর্মের প্রতি বিদ্বেষী মনোভাব তৈরী হয়। এমনকি স্থানীয় অনেকই নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তার পারিবারিকভাবে এই ধারণা লালন করা হয়ে থাকে। যে কারণে এই ধারণা থেকেই সে দীর্ঘদিন থেকে কৌশলে বিভিন্ন সময় ফেসবুকে তার ফেসবুক “Niaamul H Chowdhury (নিয়ামুল হ চৌধুরী)” আইডি থেকে পবিত্র ইসলাম ও নবী মুহাম্মদ, মা আয়েশা, সাহাবিদের, নিয়ে বাজে মন্তব্য করে আসছে।

এছাড়াও সে নিজে কয়েকজনের কমেন্ট লিখেছে পড়াশোনা কালীন সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত হরকাতুল জিহাদের জিহাদি ছিল, এবং বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর প্রাক্তন সদস্যও ছিল।

সাম্প্রতি md moniruzzamn suzon নামের এক আইডির পোস্টের কমেন্ট “আল্লাহ আছেন মানি কিন্তু দাসব্যবসায়ী মুহাম্মদ একটা ভন্ড ছিল, ইজ দ্যাট অকে?” একটা কমেন্ট করেছে। এ নিয়ে উপজেলা জুড়ে প্রতিবাদের ঝড় বইছে।

এব্যাপারে গহরপুর মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক হাফিজ মাওলানা আতিকুর রহমান বলেন,
রাসূল স.এর শানে বিয়াদবী ও অপমানকর কথা বলা অমার্জনীয় অপরাধ। নিয়ামুলের রাসুল সা. কে অপমান করে চরম বেয়াদবিমূলক কমেন্ট করেছে।শুনেছি,ফেসবুকে সে নি:শর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছে।তাকে আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তাওবা ও পুন:মুসলমান হতে হবে।সে নাকি আল্লাহ মানে, নবী মুহাম্মদ স.কে মানে না।মুসলমান হতে হলে তাকে আল্লাহ ও নবী মুহাম্মদ স. এর উপর ঈমান, শ্রদ্ধা ও ভালবাসা রাখতে হবে।কোন কোন অপব্যাখা না করে ফেসবুকে আল্লাহ ও নবীজী স.কে সম্মানপ্রদর্শনপূর্বক নি:শর্ত ক্ষমা চাইতে হবে তাকে।

গহরপুরের মুসলিম জনতার পক্ষ থেকে আমরা বলছি,এখন আমরা ক্ষমা প্রার্থনা করলে ছাড় দিচ্ছি, হেদায়তের সুযোগ পাচ্ছে সে,ভবিষ্যতে এরকম করলে সে দেশের যেখানেই থাকুক প্রশাসনকে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণের উদ্যোগ নিতে হবে।