গৌরব, ঐতিহ্য ও সংগ্রামে ৩১ বছরে ছাত্র মজলিস

সংগঠন

তারিক বিন হাবীব

আশির দশকের শেষ মুহূর্ত। জাতীয় রাজনীতির অগ্নিগর্ভ অবস্থা। দেশে চলছে স্বৈরশাসন। গণতন্ত্র পিপাসুরা ক্ষমতার লোভে পাগল প্রায়। স্থবিরতার ধারপ্রান্তে অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো। শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের কাছাকাছি। ছাত্র রাজনীতির নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অস্ত্রের মহড়া। অছাত্র-কুছাত্র, চরিত্রহীন ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী-চাদাবাজরা ছাত্র রাজনীতির লাট। রাজনৈতিক দুর্বৃত্বদের হাতিয়ার তথাকথিত ছাত্র নেতৃত্ব। বহিরাগত-অছাত্রদের দখলে ক্যাম্পাস। কারণে-অকারণে সেশন জট। চতুর্দিকে হাহাকার, অন্ধকার, দুর্বিসহ-বিভিষিকাময় পরিস্থিতি। লোভ-লালসামুক্ত, আপোসহীন, আদর্শ ও যোগ্য নেতৃত্বের অধিকারী একদল মর্দে মোজাহিদের অপোয় গোটা জাতি। এমনই কঠিন পরিস্থিতিতে ১৯৯০ সালের ৫ জানুয়ারি বিশ্ববিখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ও হাদীস বিশারদ শায়খুল হাদীস আল্লামা আজীজুল হক রহ. এর মোবারক ইশারায় ঐতিহাসিক এক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে “জ্ঞান অর্জন চরিত্র গঠন ও সমাজ বিপ্লবের প্রত্যয়” নিয়ে যাত্রা শুরু করে- বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস।
আজ সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবস। অনেক ত্যাগ, কুরবানি, সংগ্রাম আর শাহাদাতের মধ্যদিয়ে ত্রিশটি বসন্ত অতিক্রম করছে কাফেলাটি। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অসংখ্য শুকরিয়া যে, লড়ায়ের ময়দানে আমরা এখনও ধারাবাহিক কাজ করে যেতে পারছি। শায়খুল হাদীস রাহ., আবদুল গাফফার রাহ., প্রিন্সিপাল হাবীবুর রহমান রাহ., নেজাম উদ্দিন রাহ.সহ ছাত্র মজলিসের সকল শহীদ ভাইদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। তাঁদের রেখে যাওয়া দ্বীনের এই মিশন যেনো আমানতদারিতার সাথে আমরা চালিয়ে যেতে পারি।

ইসলামী ছাত্র মজলিস একটি নাম, একটি ইতিহাস, আল্লাহর পথের এক আপোসহীন কাফেলা। ছাত্র মজলিস আজ পরিণত হলো দিকভ্রান্ত ছাত্র সমাজের আলোর দিশারী, আশ্রয়স্থল ও আপামর ছাত্রসমাজের প্রতিনিধিত্বশীল কাফেলায়। গুণেধরা এ জাহেলী সমাজ ব্যবস্থাকে মুলোৎপাটন করেএকটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমের স্বপ্ন নিয়ে মহান আল্লাহর উপর ভরসা করে যাত্রা শুরু করে এদেশের সন্ত্রাসমুক্ত ও ত্রিধারায় বিভক্ত অনানুষ্ঠানিক একটি প্রতিষ্ঠান ছাত্র মজলিস।কালের বিবর্তনে আজ সে সংগঠন বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়েছে,যার ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছে দেশের লক্ষ লক্ষ মেধাবী ও মুক্তিকামী ছাত্র-তরুণ।
আলোকবর্তিকা হাতে অগ্রসরমান যে কাফেলাটি অতি দ্রুতই মেধাবী তরুণ-ছাত্রদের হৃদয়ের স্পন্দনে পরিণত হয়েছে। অভিভাবক ও শুভাকাঙ্খিমহলে আদর্শিক কাফেলা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এদেশে বহু ছাত্র সংগঠন রয়েছে এর মধ্য থেকে আদর্শিক ও সন্ত্রাসমুক্ত একমাত্র দ্বীনি কাফেলা হিসেবে ছাত্র মজলিস সর্বমহলে স্বীকৃতি লাভ করতে সক্ষম হয়েছে।
প্রাণপ্রিয় কাফেলা আজ পরিণত বয়সে উপণিত হয়েছে। জ্ঞান অর্জন, চরিত্র গঠন ও সমাজ বিপ্লবের শ্লোগানকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সব শ্রেণীর(কওমী,আলিয়া,স্কুল,কলেজসহ বিশ্ববিদ্যালয়) ছাত্রদের সাথে নিয়ে ময়দানে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা কোন গদবাধা কাজ নয়।
পরিবেশ-পরিস্থিতি, স্থান-কাল পাত্রভেদে একেক সময়ে একেকভাবে এ কাজ এগিয়েছে।তবে মূল কাজ সমাজ বিপ্লবের কাজ।এ কাজের সামঞ্জস্যতা সব যুগেই ছিল।ইসলামী ছাত্র মজলিস দাওয়াতে দ্বীনের মাধ্যমে তার কাজ শুরু করে,যে সব তরুণ অন্ধকারে আচ্ছন্ন, দিকভ্রান্ত,জীবন ও জগত সর্ম্পকে যাদের স্পষ্ট কোন ধারণা নেই,কিংবা অনেক বিষয়ে অবগত থাকলেও কর্তব্য সর্ম্পকে অমনযোগি,অথবা সচেতন হলে ভুমিকা রাখার ফুরসত পাচ্ছে না।এসব তরুণদের আলোর পথে দাওয়াত দিয়ে থাকে ছাত্র মজলিস।ইসলামের সার্বিক সৌন্দর্য্য উপস্থাপন করে,তাগুতের ভ্রান্ত ধারণাগুলো অসার প্রমাণ করে ইসলামী ছাত্র মজলিস তরুণদের মনে ঈমানের আলো জাগানোর চেষ্টা করে। আমলের প্রতি ভালবাসা ও আখলাকে হাসানা আর ইসলামের আবশ্যকিয় দায়িত্ব ও কর্ত্যব্যের প্রতি দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তরুণদেরকে উদ্বেলিত করে।

ধারাবাহিক সংগ্রামমূখর পথচলার আজ ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে উপনীত। সংগঠনের সকল প্রাক্তন দায়িত্বশীল, শুভাকঙ্খী, সুধি ও দেশের সর্বস্তরের ছাত্র জনতা ও সংগঠনের নেতাকর্মীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাই। আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর দ্বীনের জন্য কবুল করুন।

লেখক:কেন্দ্রীয় সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *