চসিক নির্বাচন: দু’গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ২

সারাদেশ

বেলা যতই বাড়ছে চট্টগ্রামে ততই ছড়িয়ে পড়ছে নির্বাচনী সহিংসতা। আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও বিদ্রোহী ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যেই মূলত এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছে। সহিংসতায় এ পর্যন্ত নগরীর পাহাড়তলী ও সরাইপাড়া ওয়ার্ডে দুজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক। এছাড়া লালখান বাজার ওয়ার্ডেও ত্রিমুখী সংঘর্ষে একজন নিহতের খবর পাওয়া গেলেও তার সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। কেন্দ্র দখলের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই সংঘর্ষ ও সহিংসতা হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় ভোটাররা।

আজ বুধবার সকালে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আলাউদ্দিন আলো (২৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। পাহাড়তলী এলাকায় ইউসেফ টেকনিক্যাল স্কুল কেন্দ্রের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সূত্র জানিয়েছে, সকাল সোয়া ৯টার দিকে ইউসেফ টেকনিক্যাল স্কুল কেন্দ্রের সামনে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। সেসময় একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। পরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এর আগে সকাল ৮টার দিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু করে নির্বাচন কমিশন। সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি কম দেখা গেছে।

সকালে নগরীর জামাল খান এলাকায় ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, মাত্র ১০ জন ভোটার ছিলেন। ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শৈবাল দাস সুমনের অন্তত অর্ধশত সমর্থক ব্যাচ ঝুলিয়ে কেন্দ্রের সামনে অবস্থান করতে দেখা গেছে। তবে বিএনপির কোনো এজেন্ট দেখা যায়নি।

পাশের ভোট কেন্দ্র শাহ ওয়ালী উল্লাহ ইনস্টিটিউটের চিত্র ছিল একই রকম। বিএনপি মনোনীত কোনো এজেন্টকে সেখানে দেখতে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার বিশ্বনাথ বিশ্বাস বলেছেন, বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী একবার কেন্দ্রে এসেছিলেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এনামুল হাসানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত কেন্দ্র পরিদর্শন করেছে। সে সময় শৈবাল দাসের সমর্থকরা কেন্দ্রের সামনে জড়ো হয়ে থাকলেও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কোনো ব্যবস্থা না নিয়েই চলে যান।

আসাদগঞ্জ সোবহানিয়া আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রের সামনেও আওয়ামী লীগ মনোনীত ও বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *