ডালিম গাছের ছায়ায়

ইতিহাস সোশ্যাল মিডিয়া

রশীদ জামীল

সত্য মিথ্যা জানি না- শুনেছি ডাস্টবিনের খাবার নিয়ে মানুষ আর কুকুরে কাড়ারাড়ি চলছিল। কৃত্রিম দুর্ভিক্ষের থাবায় দিশেহারা ছিল ৪ বছর বয়সের শিশুটি।মাত্রই হাঁটতে শেখা একটি বাচ্ছা যখন কোমর সোজা করে উঠে দাঁড়াবে- ঠিক তখনই শকুনের পাল খুবলে ধরেছিল তাকে। স্বর্ণকার নিজের মায়ের গলার সোনাও চুরি করে’- বলে একটা কথা আছে। চোরের হাত থেকে নিস্তার পাননি শিশুর পিতাও। শিশুটির নাম ‘বাংলাদেশ’।

১৯৭৪ সাল। সদ্য-স্বাধীন দেশটির যখন ঘরে বাইরে চাটার দল, মানুষ যখন দিশেহারা, তখন- তেমনই এক নাজুক সময়ে একজন তরুণ আলেম সাহস দেখালেন। অনেক প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানাদি যখন অভাবের কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছিলো, তখন হিম্মত করলেন তিনি। ছোট্ট একটি ডালিম গাছের ছায়ায় রোপন করলেন একটি বীজ। বীজটি ছিল বিশেষ কিছু; বর্ন ইন মদিনা, ব্রটাপ ইন দেওবন্দ।

বীজতলায় নিয়মিত পানি দিয়ে যেতে লাগলেন তরুণ। নিজের গ্লাসের অর্ধেক পান করলেন, অর্ধেক পান করালেন। বীজ থেকে চারা গজালো। গাছ হলো। বেড়ে উঠলো গাছটি। ফুলে ফলে বড় হলো সেই গাছ। গাছটির নাম জামেয়া মাদানিয়া কাজিরবাজার সিলেট’। তরুণের নাম হাবীবুর রহমান- পরের পৃথিবী যাকে আবিস্কার করেছিল প্রিন্সিপাল হাবীবুর রহমান নামে।

৫ জুন ২০২০। আজ থেকে ঠিক ছেচল্লিশ বছর আগের এই দিনে জন্ম হয়েছিল জামেয়া মাদানিয়ার। সেই অর্থে আজ জামেয়ার ৪৭তম জন্মদিন। আজকের এই দিনে জামেয়া তার সকল সন্তানকে মনে করবে। সে তার অনেক সন্তানের কথা ভেবে খুশি হবে। শেষবেলায় নীরবে একটু কাঁদবেও। কেউ যদি জিজ্ঞেস করে এই খুশির দিনে তোমার চোখে জল? সে তখন চোখ মুছতে মুছতে বলবে, ‘পিতা হারানো একজন সন্তান কেমন করে চোখের পানি ধরে রাখবে?

প্রিয় জামেয়া! মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকো, অনন্তকাল।
প্রিয় পিতা! ওপারে ভালো থাকুন আপনি।