দল নিবন্ধন আইন প্রত্যাখান করলো বিএনপি

রাজনীতি

নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন আইন, সংশোধনী প্রস্তাব এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনী আইন প্রণয়ন প্রত্যাখান করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশন এই (করোনাকাল) সময়টিকে বেছে নিয়েছে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আইন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আরপিও এর অনেকগুলো মৌলিক সংশোধনী আনয়নের জন্য। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগকে অপ্রয়োজনীয়, হঠকারী ও উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এই উদ্যোগ কোনো বিবেচনাতেই স্বাভাবিক কিংবা সময়োচিত নয়। বরং অস্বাভাবিক, অনভিপ্রেত, অগ্রহণযোগ্য এবং মহল বিশেষের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের অপকৌশল বলে আমরা মনে করি।

তিনি বলেন, যেকোনো জনগুরুত্বসম্পন্ন নতুন আইন প্রণয়নে জনমত গ্রহণ, সংশ্লিষ্টজনদের অবারিত মত প্রদানের অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং আইনের ভাষা ও শব্দচয়নে সর্তকতা গ্রহণ অতিশয় প্রয়োজনীয় পূর্বশর্ত। অথচ বিদ্যমান সময়ে এর কোনটাই সম্ভব নয় জানা সত্ত্বেও যে আইন পরিবর্তনের বা স্বতন্ত্র আইন প্রণয়নের জন্য কোনো জন দাবি নেই এবং যা এখনই করা আদৌ জরুরি নয় তেমন একটি কাজ হাতে নেওয়ার জন্য কমিশনের উদ্যোগ অসময়োচিত, সামর্থের অপব্যয় ও সন্দেহজনক। তাই দেশে বিদ্যমান সংকটময় সময় উত্তীর্ণ হওয়ার পর সংশ্লিষ্টজনদের সাথে সময় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে মতামত গ্রহণ এবং জনমত সংগ্রহ করার মত পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন প্রস্তাব চূড়ান্ত করা উচিৎ হবে না বিধায় এহেন গুরুত্বপূর্ণ নতুন আইন প্রণয়ন/সংশোধনী কার্যক্রম স্থগিত রাখার দাবী জানিয়ে আমরা নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিক পত্র প্রেরণ করি।

‘রকিবউদ্দিন কমিশন থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত নির্বাচনী আইনে যে পরিবর্তন হয়েছে সেটার দুইটা দিক আছে। একটা হচ্ছে নির্বাচন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করা, আরেকটা হচ্ছে কমিশনকে দুর্বল ও অকার্যকর করা। বলার অপেক্ষা রাখে না যে ইতোমধ্যে বর্তমান কমিশন তার বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে।’

আইন হচ্ছে একটি রক্ষাকবচ মন্তব্য করে তিনি বলেন, আইন পরিবর্তনের কাজে কমিশন হাত দিতে পারে না। সরকার চাইলে নির্বাচন কমিশন সরকারকে আইন করার ব্যাপারে পরামর্শ দিতে পারে। কিন্তু স্বপ্রণোদিত হয়ে কমিশনের আইন প্রণয়নের উদ্যোগ সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদের সাথে সাংঘর্ষিক। আইন পরিবর্তন করে নিজেদের ক্ষমতা খর্ব করা অনেকটা আত্মহত্যার শামিল। বর্তমান কমিশনের অকার্যকারিতা সম্পর্কে সবাই জানে, আইন পরিবর্তন করার মাধ্যমে তারা জনগণের কাছে আরো ঘৃণ্য হিসাবে গণ্য হবে। বর্তমান আইনে মনোনয়ন পত্র বাতিলের এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের। কমিশন এই ক্ষমতা নিজেদের কাছে রাখতে চায় না। ফলে কমিশন বিড়ালে পরিণত হবে মর্মে একজন নির্বাচন কমিশনার মন্তব্য করেছেন।

বর্তমান নির্বাচন কমিশন এখন আর স্বাধীন নেই মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তারা সরকারের হুকুম তামিলের জন্য আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। কমিশন সরকার নির্দেশিত প্রক্রিয়ায় সকল কাজ করছে। এর সর্বশেষ দৃষ্টান্ত হলো জাতীয় পরিচয়পত্রের প্রকল্প কমিশন সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব। এটা হলে ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষমতা সরকারের কাছে চলে যাবে। ফলে সরকার নিজের ইচ্ছামতো ভোটার তালিকা প্রণয়নের সুযোগ পাবে। সেই ভোটার তালিকায় প্রকৃত ভোটার নয়, সরকারী দলের পছন্দের লোকজনকে স্থান করে দেয়া হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। এটা জাতীর জন্য একটি অশনিসঙ্কেত ছাড়া আর কিছুই নয়।

সংশোধনের প্রস্তাব সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সময়ক্ষেপণের একটি চাল বা অপকৌশল বলে মন্তব্য করেন ফখরুল। তিনি বলেন, অস্বীকার করার সু্যোগ নাই, বাংলাদেশের চলমান বাস্তবতায় রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু সেই আইন কখনোই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না, যে আইনের মারপ্যাচে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অধিকাংশ সক্রিয় দল নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে থাকতে বাধ্য হয়।

ফখরুল বলেন, বর্তমানে নির্বাচনব্যবস্থার প্রতি এদেশের মানুষ ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী কোনো রাজনৈতিক দলের নূন্যতম শ্রদ্ধা কিংবা আস্থা নাই। আর এজন্য নিঃসন্দেহে গত ১০ বছরে বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে যারা গলাটিপে হত্যা করেছে কেবলমাত্র তারা এবং তাদের সহযোগী হিসেবে নির্লজ্জ ভূমিকা রাখা বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর বশংবদ নির্বাচন কমিশনই দায়ী। এ নির্বাচন কমিশন বাতিল করতে হবে। একটি নিরপেক্ষ সরকারের তত্ত্বাবধানে এবং একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

জেআর;