দাওয়াত ও তাবলীগের ইতিহাস

ইতিহাস

মুফতি সৈয়দ নাছির উদ্দীন আহমদ

আল্লাহ পাক দুনিয়াতে দুটি রাস্তা চালু করেছেন,একটি হিদায়াত এবং জান্নাতের রাস্তা।আর অপরটি গোমরাহী এবং জাহান্নামের রাস্তা ।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,’আর আমি তাকে [মানুষকে] পথ দেখিয়েছি, হয়তো সে কৃতজ্ঞ হয়েছে অথবা অকৃতজ্ঞ,।(সূরা দাহর;৩)
তাবলীগ কী ও কেন :
মানুষ যেন জাহান্নামের রাস্তা ছেড়ে জান্নাতের রাস্তায় চলতে পারে, এ জন্য আল্লাহ তা‘আলা লক্ষাধিক নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন।
“আসবাবের” উপর যে গলদ ইয়াকীন মানুষের অন্তরে পয়দা হয়েছে,তা দূর করে সবকিছু আল্লাহ থেকেই হয়,তার ইয়াকীন ও বিশ্বাস সৃষ্টি করার জন্য আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম মানুষের দিলের উপর মেহনত করেছেন। আর সেটাই  হচ্ছে তাবলীগ ।
তাবলীগ মুসলিম মিল্লাতের অতি পরিচিত একটি শব্দ। যার অর্থ প্রচার ও প্রসার। কিয়ামত পর্যন্ত আগত সকল বিশ্ব মানবের নিকট দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছাবার যে গুরু দায়িত্ব হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কর্তৃক সকল উম্মতে মুহাম্মদীর উপর অর্পিত হয়েছে,পরিভাষায় সেটাকেই তাবলীগ বলে ।মূলত রাসূলুুুল্লাহ (সাঃ) বিশ্ব মানুষের কাছে দ্বীনের এ দাওয়াত পৌঁছাবার ও প্রচার-প্রসারের মহান দায়িত্ব নিয়েই পৃথিবীতে আগমণ করেছিলেন। যেমন আগমণ করেছিলেন রাসূলুুুল্লাহ (সাঃ) এর পূর্বে ১ লক্ষ ২৪ হাজার নবী ও রাসূল। দ্বীনের প্রচার প্রসার করা খোদা প্রদত্ত একটি নির্দেশ ।
রাসূল (সা:) কে তাবলীগ করার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন,হে রাসূল! আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার উপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা আপনি প্রচার করুন । যদি আপনি তা না করেন তাহলে আপনি আল্লাহর বার্তা প্রচার করলেন না। (সূরা মায়েদা : ৬৭)
মহান আল্লাহ পাক এরশাদ করেন,আপনি আপনার প্রতিপালকের দিকে আহবান করুন হিকমত বা প্রজ্ঞা দ্বারা এবং সুন্দর ওয়াজ-উপদেশ দ্বারা এবং তাদের সাথে উৎকৃষ্টতর পদ্ধতিতে আলোচনা-বিতর্ক করুন । (সূরা নাহল: ১২৫)
অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন,আর যেন তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল হয়, যারা কল্যাণের প্রতি আহবান করবে, ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে। আর তারাই সফলকাম। (সূরা আলে ইমরান: ১০৪)
সৎকাজসমুহকে পবিত্র কুরআনে”মারূফ”বলা হয়েছ। যার মধ্যে ঐসমস্ত নেক আমল ও সৎকাজ শামিল,যা ইসলাম নির্দেশ দিয়েছে এবং নবীগণ যুগে যুগে তা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা চালিয়েছেন । আর অসৎ কাজসমুহকে পবিত্র কুরআনে”মুনকার” বলা হয়েছে । যার মধ্যে ঐ সমস্ত অপকর্ম ও অন্যায় আচরণ শামিল,যা ইসলাম নিষেধ করেছে । ( ‘মা’আরিফুল কুরআন ২/১৪১)
দ্বীনের কথা সর্বোত্তম কথা :
মহান আল্লাহ পাক এরশাদ করেন,ঐ ব্যক্তির কথার চেয়ে কার কথা উত্তম যে আল্লাহর প্রতি মানুষকে আহবান করে, সৎকর্ম করে এবং বলে, আমি তো মুসলিমদের একজন।( সূরা ফুসসিলাত:৩৩)
অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন: তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি, মানবজাতির (কল্যাণের) জন্য তোমাদের আবির্ভাব হয়েছে। তোমরা ন্যায়কার্যে আদেশ এবং অন্যায় কার্যে নিষেধ কর এবং আল্লাহতে বিশ্বাস কর। (সূরা আলে ইমরান: ১১০)
দ্বীনের দাওয়াত কেন দিবো :
মানুষ একে অন্যকে দাওয়াত দিবে নিজের হিদায়াত ও উন্নতির জন্য।এতে অন্য ব্যক্তি হিদায়াত প্রাপ্ত হোক বা না-ই  হোক।এটাই হল দ্বীনী দাওয়াতের মূল লক্ষ্য।প্রত্যেকে নিজের পূর্ণতার লক্ষ্যে আল্লাহর বিধান মত অন্যকে দ্বীনের দাওয়াত দিবে এবং সেই ব্যক্তি থেকে তার কোন রকম দুনিয়াবী স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্য থাকবেনা ।
একজন মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় দৌলত বা সম্পদ হচ্ছে তার ঈমান । ঈমান থেকে বড় কোন দৌলত হতে পারে না । আমলের মর্তবা ঈমানের নীচে । সুতারাং ঈমানের দাওয়াত সর্বপ্রথম দাওয়াত।প্রকৃতপক্ষে ঈমান এমন বস্তু যা শিক্ষা করতে হয় । তার জন্য দীর্ঘ মেহনত ও প্রচেষ্টা চালাতে হয় । সাহাবীগণের (রা:) মক্কী যিন্দেগীর অধিকাংশ মেহনত ঈমান পরিপক্ক করার লক্ষ্যে ছিল । হযরত উমর ফারুক (রা:) বলতেন,”আমরা প্রথমে ঈমান শিখেছিলাম,তারপর দ্বীনের আহকাম শিখেছিলাম ।
অবশ্য আল্লাহর কিছু এমন বান্দা আছেন যাদের অন্তরে ঈমানের কথা শ্রবণের সাথে সাথে পরিপক্ক ঈমান বদ্ধমূল হয়ে যায়।তাদের ইয়াক্বীন বা বিশ্বাস অর্জনে দীর্ঘ মুজাহাদা বা পরিশ্রমের কোন প্রয়োজন পড়ে না।তবে আল্লাহ পাকের সাধারণ নিয়ম যা অধিকাংশ লোকের ব্যাপারে জরুরী তা হল ঈমান মজবুত ও ইয়াক্বীন পাকাপোক্ত করার জন্য ঈমানের দাওয়াতের মাধ্যমে মুজাহাদা করা । ( সুরা আনকাবুত ৬৯)
দ্বীনের জন্য ত্যাগ ও কুরবানী :
দ্বীনের দাওয়াতের জন্য স্বয়ং রাসূলুুুল্লাহ (সা:) এবং সাহাবায়ে কেরাম (রা:) সর্ববিধ ও সর্বাধিক কুরবানী পেশ করেছেন।মক্কার যিন্দেগীতে দাওয়াতের খাতিরে রাসুল(সা:) এর কুরবানী সর্বজনবিদিত,বিশেষ করে তায়েফের লোমহর্ষক ও হৃদয় বিদারক ঘটনা কোন মুসলমানের অজানা নয়।রাসূল (সা:) এরশাদ করেন, দ্বীনী দাওয়াতের কারণে আমাকে যতটুকু কষ্ট দেয়া হয়েছে তা অন্য কোন নবীকে দেয়া হয়নি ।

দ্বীনের দাওয়াতের জন্য রাসূলুুুল্লাহ (সা:) ও সাহাবায়ে কেরাম (রা:) নানাবিধ কষ্ট নির্যাতন সহ্য করেছেন ।যার বিস্তারিত বর্ণনা হাদীস শরীফে রয়েছে । এসব কষ্ট নির্যাতন সহ্য করে দ্বীনের দাওয়াত দিয়েছেন উদ্দেশ্য একমাত্র মানুষের ঈমানের তরক্কী ও উন্নতি এবং আল্লাহর শক্তি ও কুদরতের উপর অটল অবিচল বিশ্বাস অর্জন করা ।
সাহাবায়ে কেরাম (রা:) রাসুলের বাতানো পথে এভাবে ঈমানের বলে বলীয়ান হয়েছিলেন,যার ফলে মুষ্টিময় সংখ্যা সারাবিশ্বকে কাপিয়ে তুলেছিলেন,যাদের ভয়ে সে যামানার পরাশক্তি রোম ও পারস্য শত শত মাইল দূরে থেকেও কম্পিত ছিল । সাহাবায়ে কেরামের (রা:) ঈমানের শক্তি ও আল্লাহর অশেষ সাহায্যে সমুগ্র পৃথিবীতে ইসলামের পতাকা উড্ডীন হয়েছিল ।

সেই সাহাবী ওয়ালা ঈমানী শক্তি অর্জন করতে হলে মুসলিম উম্মাহকে ঈমানের পূর্ণতা হাসিলের জন্য যথেষ্ট ত্যাগ কুরবানী এবং জবরদস্ত মেহনত করা দ্বীনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন ।কারণ দ্বীনের মেহনতে শেষ যামানার মানুষগণ সাহাবী না হলেও তাদের সাওয়াবের অধিকারী হতে পারবে ।এব্যাপারে রাসূলুুুল্লাহ (সা:) এরশাদ করেন, নিশ্চয় এই উম্মতের শেষের দিকে এমন জামা’আত তৈরি হবে।যারা প্রথম যামানার লোকদের ন্যায় সাওয়াবের অধিকারী হবে ।

তারা সৎ কাজের আদেশ করবে ও অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখবে । আর তারা ফিতনাকারীদের সাথে হাত দিয়ে বা যবান দিয়ে কিংবা কলম দিয়ে মুকাবিলা করবে । (বাইহাকি শরীফ) অপরদিকে দাওয়াতের কাজ ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে হাদীস শরীফে বিভিন্ন রকম ধমকি এসেছে ।
নবীওয়ালা কাজের যিম্মাদার কারা :
রাসূল (সাঃ) হলেন সর্বশেষ নবী । তার পর পৃথিবীতে আর কোন নবী আসবে না । তাই বিদায় হজ্বের সময় রাসূল সাঃ বজ্র কণ্ঠের ঘোষণা “উপস্থিত লোকেরা যেন দ্বীনের এ দাওয়াত অনুপস্থিত লোকদের কাছে পৌছে দেয়”।
এর মাধ্যমে সমস্ত উম্মতে মুহাম্মদীই তাবলীগ তথা দ্বীন প্রচারের ব্যাপারে দায়িত্বশীল হয়ে যায়।

যে ব্যক্তি দ্বীন সম্পর্কে যা জানে তা’ই অন্যের কাছে পৌছে দেয়ার দায়িত্বশীল করে রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেন-‘আমার পক্ষ থেকে একটি বাণী হলেও (মানুষের কাছে) পৌঁছে দাও,
( সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৩২৭৪,সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-২৬৬৯)
আমাদের ভাগ্য বড় ভালো,নবীওয়ালা সে দিলের উপর মেহনত তথা দাওয়াতের যিম্মাদারী বিনা দরখাস্তে আমাদের দিয়ে দেওয়া হয়েছে।সকল উম্মতের উপর সাধারণভাবে এবং উলামায়ে কেরামের উপর বিশেষভাবে সেই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ।
প্রচলিত দাওয়াত ও তাবলীগ নবীওয়ালা কাজ :
শরীয়তের দৃষ্টিতে দাওয়াতের কাজের জন্য নির্ধারিত বা অবধারিত বিশেষ কোন তারতীব নেই । বরং ইসলাম সমর্থিত যে কোন তারতীবেই দাওয়াতের কাজ করা যায়।রাসূল(সা:) দাওয়াতের কাজ বিভিন্ন ভাবে করেছেন।
কখনো হুজুর(সা:) মহল্লায় মহল্লায় দ্বারে দ্বারে গিয়ে ঈমানের দাওয়াত দিতেন । আবার কখনো কাফিরদের কোন মজলিসে গিয়ে ওয়াজ নসিহতের মাধ্যমে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছাতেন ।

কখনো সবাইকে একত্রিত করে বেহেশতের সুসংবাদ ও দোযখের ভয় প্রদর্শন করে দ্বীনের উপর চলার জন্য দাওয়াত পেশ করতেন । কখনো নিজের এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায় গিয়ে দাওয়াত দিতেন । সাহাবায়ে কেরামকে বিভিন্ন এলাকা বা গোত্র বা ব্যক্তি বিশেষের নিকট পাঠিয়ে  দ্বীনের দাওয়াতের কাজ স্বয়ং নবীজী (সা:) আন্জাম দিয়েছেন । দ্বীনের দাওয়াতের তাগিদে রাসূল(সা:) প্রয়োজন রোধে হিজরতও করেছেন ।

কখনো চিঠির মাধ্যমে বিভিন্ন গোত্রের সরদার ও রাজা বাদশাহদের নিকট দাওয়াত পৌছিয়েছেন এমনকি জিহাদের মাধ্যমেও আমর বিল মারূফ ও নারী আনিল মুনকার এর কাজ করেছেন।
অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন পদ্ধতিতে দাওয়াতের কাজ করা হয়েছে । সে হিসেবে হযরতজী মাওলানা ইলিয়াস (রাহ:) এর প্রতিষ্ঠিত বর্তমান তাবলীগ জামাআত শরয়ী কোন বিধানের পরিপন্থী নয় । বরং তা বিজ্ঞ হক্কানী আলেমগণের কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিতে চিন্তা ফিকির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত।তাই এটাও নবীওয়ালা কাজসমূহের একটি সহজ ও সুন্দর পদ্ধতি ।

আলহামদুলিল্লাহ এর দ্বারা সমুগ্র বিশ্বের আনাচে কানাচে দ্বীনের কাজ চলছে । এর সুবাদে মানুষ ঈমান ও আমলের দ্বারা সঠিকভাবে দীক্ষিত হচ্ছে।অনেক কাফের মুশরিক ঈমানের দিশা পেয়ে এর আলোতে আলোকিত হচ্ছে ।

তবে একথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, প্রচলিত দাওয়াত ও তাবলীগ দ্বীনের একমাত্র পদ্ধতি এটা বলা বা দাবি করার কোন সুযোগ যেমন নেই তেমনি একাজের বিরুদ্বাচরণ বা সমালোচনার সুযোগও নেই । বরং এরূপ ধারণা হবে মারাত্মক অজ্ঞতা ও ভ্রষ্টতা ।
আল্লাহ তা‘আলার মেহেরবানী যে,আল্লাহ পাক নিজ অনুগ্রহে হযরতজী মাওলানা ইলয়াস (রহ.)এর মাধ্যমে এই নবীওয়ালা মেহনতের একটি সহজ পদ্ধতি চালু করেছেন ।
এ পদ্ধতির মাধ্যমে জনসাধারনের জন্য দ্বীনী জযবা তৈরি করা যেমন সহজ হয়েছে,তেমনি উলামায়ে কেরামের জন্য উম্মতের কাছে দ্বীনী ইলম পৌঁছে দেওয়াও সহজ হয়েছে ।

ইসলামের প্রাথমিক যুগে রাসুল(সাঃ) এর মৃত্যুর পর তার আদর্শে গড়ে ওঠা সাহাবী,তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীগণের মাধ্যমে ইসলামী জীবন বিধান প্রচার ও প্রসারের কার্যক্রম আরো বিস্তৃতি লাভ করে ।
কিন্তু মুসলিম শাসকদের ক্ষমতা বিলুপ্তির পর ইসলামী প্রচার কার্যক্রমে ভাটা পড়তে থাকে । এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য মুসলিম মনীষীদের প্রচেষ্টাও অব্যাহত ছিল। এমনই পরিস্থিতিতে মাওলানা মুহাম্মাদ ইলিয়াস কান্ধলভী (রাহ:) ১৯২০ এর দশকে ভারতের দিল্লিতে তাবলিগ জামাতের সূচনা করেন। একই সাথে এলাকাভিত্তিক সম্মিলন/ইজতেমারও আয়োজন করেন। মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্ধলভি (রাহ:) তিনি ছিলেন ভারতের একজন ইসলামি পন্ডিত বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন।১৮৮৫ সালে ব্রিটিশ ভারতের যুক্তপ্রদেশের একটি ছোট শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন ।

তাবলীগি কার্যক্রম সূচনার পর হতে নেতৃত্ব প্রদান করেন- এর প্রতিষ্ঠাতা ওলীয়ে কামেল হযরত
মাওলানা ইলিয়াস কান্ধলভী(রাহ:) ।
হযরতের ইন্তেকালের পর তাবলিগ জামাতের আমির নিযুক্ত হয়েছিলেন তারি পুত্র বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন ও হাদিস বিশারদ মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ কান্ধলভি (রাহ:) । মাওলানা ইউসুফ সাহেব (রহ.) ও শায়খুল হাদীস জাকারিয়া (রহ.)এর ইন্তেকালের পর তখন বিশ্ব তাবলীগ জামাতের নেতৃত্ব দান করেন মাওলানা এনামুল হাসান (রহ.)।

বাংলাদেশে ১৯৪০ দশকের শেষে তাবলিগ জামাতের প্রচলন করেন মাওলানা আবদুল আজিজ(রাহ)।এসব মহান মনীষীদের নিরলস প্রচেষ্টায় তাবলিগ জামাত একটি বহুল প্রচারিত নিরব আন্দোলন হিসেবে রূপ নিয়েছে ।

হযরত মাওলানা ইউসুফ কান্ধলভী সাহেব (রহ.)-এর উপস্থিতিতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ঢাকার কাকরাইলে ১৯৪৮ সালে ১ম বার্ষিক এজতেমা অনুষ্ঠিত হয় । এরপর বার্ষিক এজতেমা  ক্রমান্বয়ে ১৯৬৬ সালে সর্বপ্রথম টঙ্গীর তুরাক তীরে আয়োজন করা হয় ।
স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিস্তীর্ণ ও বিশাল ময়দানটি তাবলীগের এজতেমার জন্য ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন ।
যার ফলশ্রুতিতে এখানে নিয়মিত তাবলীগ জামাতের বার্ষিক এজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। যা আশির দশক হতে বিশ্ব এজতেমার রূপে পরিগ্রহ করে ।

আলহামদুলিল্লাহ,প্রচলিত দাওয়াত ও তাবলীগের প্রথম যামানার মুরব্বীদের এখলাস ও কুরবানীর বদৌলতে এ মেহনতের ব্যাপক ফায়দা পরিলক্ষিত হয়েছে। তবে বর্তমানে এ মেহনতকে কেন্দ্র করে বড় ধরণের একটি ফেতনা শুরু হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে প্রচলিত দাওয়াত ও তাবলীগ এখন ২টি দলে বিভক্ত দেখা দিয়েছে ।
প্রথম দল যারা হক্কানী উলামাদের সাথে আছেন ।

দ্বিতীয় দল যাদের নাম রেখেছে “ইতাআতী”। তাদের দাবী হলো তারা মাওলানা সাদ সাহেবের ইতাআত তথা অনুসরণ করেন । দ্বীনের অভিভাবক হিসেবে উলামায়ে কেরামের দায়িত্ব হলো,শরী‘আতের কষ্ঠিপাথরে প্রত্যেক দলের দাবীর যথার্থতা নিরীক্ষণ করা এবং দ্বীনী কাজে সৃষ্ট এ ফেতনার অবসানে উম্মতকে সঠিক নির্দেশনা প্রদান করা।

সে হিসেবে উলামায়ে হক্কানী মাওলানা সাদের ভ্রান্ততা  নিয়ে সচেতনতা মুলক সময়ের সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন । যার ফলে দাওয়াত ও তাবলীগের মুল ইতিহাস ঐতিহ্য এখনো মুসলিম মিল্লাতের সামনে সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হয়ে আছে ।তাই বলতে পারি মুলত দাওয়াত ও তাবলীগ বিভক্ত নয় অখণ্ডিত ছিল আছে ।যার পরিচালনা অতীতের ন্যায় এখনো আমাদের হক্কানী উলামায়ে কেরামগণের তত্বাবধানে হচ্ছে ।

আর মাওলানা সাদের অনুসরণকারী এতায়াতি ভাইরা নিজেদেরকে তাদের প্রচলিত ভ্রান্ততার উপর প্রতিষ্ঠিত রেখে দ্বীনের দায়ী হিসেবে দাবি করলেও তা মিথ্যা বলে বিবেচিত । কারণ সেই অধিকার তাদের নেই ।

আলহামদুলিল্লাহ হক্কানী উলামাদের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের ৫৫ তম বিশ্ব ইজতেমা ।
ইসলাম ও উলামায়ে হক্কানী প্রিয় লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের উপস্থিতিতে চলছে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ এবারের বিশ্ব ইজতেমা ।
আল্লাহ পাক ২০২০ সনের ১০-১১-১২ ইংরেজি বিশ্ব ইজতেমাকে সার্বিক কামিয়াবি ও কবুল করুন।