দেশের উপকার হলে আমি যেকোনো মুহূর্তে পদত্যাগ করতে প্রস্তুত: ইসি মাহবুব

সংবাদ

যেকোনো মুহূর্তে পদত্যাগ করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। সোমবার নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে পদত্যাগ করলে যদি লাভ হয়, দেশের যদি কোনো উপকার হয়, তাহলে আমি যেকোনো মুহূর্তে পদত্যাগ করতে প্রস্তুত।

মাহবুব তালুকদার বলেন, এই দাবিটা সম্ভবত আমাদের কাছে নয়, এটা অন্যত্র দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে একটা কথা আছে। আমরাতো একটা প্রসেসের মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশনার হয়েছি। এখন যদি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল আমাদের ব্যাপারে গঠিত হয় আমাদের কোনোকিছু বক্তব্য তো নেই। ঠিক না? আর একটা প্রসেসের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত হওয়ার পরে আমি পদত্যাগ করে ফেললাম, এটা কোনো বিষয় হয় না।

তিনি বলেন, আমি এই পর্যন্ত তিনবার পদত্যাগের অনুরোধ পেয়েছি। এখন কতবার পদত্যাগ করবো। সেটাও একটা প্রশ্ন।

এর আগে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার চার বছর পূর্তি উপলক্ষে তিনি একটি লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সাংবাদিকদের কাছে।

এতে মাহবুব তালুকদার বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের আজ ৪ বছর পূর্ণ হলো। পেছনের দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছে আমাদের আত্মবিশ্লেষণ প্রয়োজন। প্রায় সব নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে আমরা তৃপ্তি বোধ করি। কিন্তু নির্বাচন বিষয়ে আমাদের সব দাবি জনগণের উপলব্ধির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। কেবল রাজনৈতিক দল নয়, নীরব জনগোষ্ঠীর অশ্রুত ভাষা শ্রবণের প্রচেষ্টা থাকা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বর্তমানে নির্বাচন এককেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে। এককেন্দ্রিক নির্বাচন বহুদলীয় গণতন্ত্রের উপাদান হতে পারে না। যেহেতু নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যায় না, সেহেতু নির্বাচনের প্রতিটি আইনকানুন ও আচরণবিধি কঠোরভাবে পালনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে পরিপালন ও সংরক্ষণ করতে হয়।

মাহবুব তালুকদার তার লিখিত বক্তব্যে নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কারের প্রশ্নও তোলেন। তিনি বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া যথাযোগ্য সংস্কার না করার কারণে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা এখন গভীর খাদের কিনারে। এই সংস্কার নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্ভর করে না। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলো এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সমঝোতা প্রয়োজন।

কমিশনের সঙ্গে বারবার দ্বি-মত পোষণ করে আলোচনায় আসা এই কমিশনার বলেন, পৌরসভা নির্বাচনের ফলাফল দেখে আমার ধারণা হচ্ছে নির্বাচন নির্বাসনে যেতে চায়। নির্বাচন অর্থ অনেকের মধ্য থেকে ভোটের মাধ্যমে বাছাই। কিন্তু সে অবস্থা আজকাল পরিলক্ষিত হয় না। প্রশ্ন জাগে, নির্বাচন কি এখন পূর্ব নির্ধারিত? নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য না হলে, কোনো বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র আপন মহিমায় বিকশিত হতে পারে না।

তিনি আরো বলেন, আগামী মে মাস থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দলীয় প্রতীকে ব্যাপক পরিসরে কয়েক ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনেও সহিংসতার আশঙ্কা করি। আচরণবিধি লঙ্ঘন ও হানাহানি বর্তমানে নির্বাচনের অনুসঙ্গ হয়ে গেছে। কোনো অনভিপ্রেত ঘটনাই বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার উপায় নেই। কারণ কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা মিলে একটি অবিচ্ছিন্ন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাই প্রাণহানীর অভিশাপ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষার পথ অবশ্যই খুঁজে বের করতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমাদের উদ্যোগ কেন কার্যকর হচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ আবশ্যক।

সবশেষে তিনি নিজেকে আশাবাদী মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে লিখিত বক্তব্যে প্রশ্ন রাখেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের কার্যকালের শেষবর্ষের প্রারম্ভে দাঁড়িয়ে একজন আশাবাদী মানুষ হিসেবে যার শেষ ভালো তার সব ভালো এই প্রবাদবাক্যটিকে কি আশ্রয় করতে পারি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *