ফেলে আসা অতীতের সোনালী দিনগুলো

কলাম

আলহাজ্ব মাওলানা আতাউর রহমান

৫ জুন ছিলো জামেয়া মাদানিয়া ইসলামীয়া কাজিরবাজারের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী।দীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে জামেয়া ইসলামী শিক্ষার বিকাশের পাশাপাশি দেশ ও জাতীর কল্যাণে নিবেদিত। ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষা ও ইসলামকে সমুন্নত রাখতে জামেয়ার অবদান ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। প্রিন্সিপাল আল্লামা হাবীবুর রহমান রহ.এর রক্ত-ঘাম ও দীর্ঘ সংগ্রামে প্রতিষ্ঠিত এই জামেয়ার ছাত্র ও ফারিগ আমি।শিক্ষকতার সৌভাগ্যও হয় গৌরবের এই জামেয়ায়।জামেয়ায় থাকাকালীন অসংখ্য আন্দোলন-সংগ্রামমুখর দিনগুলোর স্মৃতি মাঝে-মধ্যে ভেসে ওঠে স্মৃতির দর্পণে।

আমার বন্ধু রাজপথের লড়াকু সৈনিক শাহ মমশাদ আহমদ ভাই প্রতিবার্ষিকী দিবসে ‘প্রিন্সিপাল রহ. এর যুগান্তকারী কয়েকটি পদক্ষেপ’ শীর্ষক গবেষণাধর্মী একটি নিবন্ধে লেখেছেন।তাঁর অতীতের স্মৃতিমাখা নিবন্ধে ইতিহাসের পাতায় আমিও ছিলাম।আমারও মনে পড়লো জামেয়ার সোনালী দিনের গৌরবময় অধ্যায়গুলো।

১-জামেয়ায় আমাদের সময়ে শাহ মমশাদ ভাই জি.এস.আমি ও এমরান আলম ভাই এ.জি. এস. থাকাকালীন ‘আল ইসলাহ কমিটি’পরিবর্তন করে ‘আল ইসলাহ ছাত্র সংসদ’ গঠন করা হয়।

২-আল্লাহর মেহেরবানী আমি মুখতাছার জামাতে পড়াকালীন সময়ে প্রথম এ.জি. এস. ছিলাম। পরবর্তীতে জালালাইন জামাতের বছরেও এ. জি. এস. ছিলাম। জামেয়ার ৪৬ বছরের ইতিহাসে একমাত্র আমিই সে সৌভাগ্য অর্জন করেছি।শাহ মমশাদ ভাই প্রথম জি.এস.হওয়ার পূর্বে ছাত্র সংসদের এই পদাধিকারীকে ‘ছাত্র নাজিম’বলা হতো।
৩-ছাত্র দল,ছাত্র শিবির,তালামিয সমন্বয়ে মজলুম ছাত্র কাফেলার বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রইস উদ্দিন ছিলেন আহ্বায়ক, জি.এস. শাহ মমশাদ ছিলেন যুগ্ন আহ্বায়ক,আমি ছিলাম আন্দোলন পরিচালনা সেলের প্রধান।

৪-সিলেট বিভাগ প্রতিষ্ঠায় জামেয়া অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।আমি জি.এস হিসাবে সিলেট বিভাগ বাস্তবায়ন সর্বদলীয় ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ন আহ্বায়ক ছিলাম।সে আন্দোলনে জামেয়া গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখায় বিভিন্ন সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন জি.এস.হিসেবে আমার সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে।

৫-নাস্তিক মুর্তাদ বিরুধী আন্দোলনের সূচনায় আমি, শাহ মমশাদ ভাই ও মুখলিস ভাই একমাস সাতদিন কারাবরণ করি। মুজাহিদে মিল্লাত প্রিন্সিপাল আল্লামা হাবীবুর রহমান রহ.নাস্তিক মুর্তাদ বিরুধী আন্দোলনের রুপকার, কিশোর গঞ্জের কিশোর, ছাত্র মজলিস কর্মী আরমান প্রথম শহীদ আর আমি, শাহ মমশাদ ভাই ও মুখলিস ভাই প্রথম কারাভোগকারী হিসাবে নিজকে গর্বিত মনে করার সাথে সাথে আল্লাহ যাতে আমাদের কোরবানি কবুল করেন এ দোয়া করি।
৬ -আল্লাহ পাক প্রিন্সিপাল রহ.এর প্রিয়ভাজন ছাত্র হওয়ার তাওফিক দিয়েছেন -এটা আমার জীবনের সেরা পাওয়া।হুজুর যখন ১৯৯১ সালে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন,আমি ও শাহ মমশাদ ভাই দুমাস যাবত গোলাপগঞ্জ বিয়ানীবাজার এলাকায় অবস্থান করি।পথসভা, জনসভায় আমাদের না দেখলে হুজুর ব্যাকুল হয়ে যেতেন। সে ভালবাসা এখনো কাঁদায়।নির্বাচনের পরপরই ছিল কেন্দ্রীয় পরীক্ষা। আমি কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল করি।শাহ মমশাদ ভাই সারা দেশের মেধা তালিকায় পঞ্চম স্থান লাভ করেন।এটাই ছিল জামেয়ার অনন্যতা, একদিকে আন্দোলন অপরদিকে মেধার লালন ও বিকাশ।

জামেয়া ও প্রিন্সিপাল রহ.এর অনেক ইতিহাসের সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও আত্মপ্রচারের ভয়ে কিছু লিখিনা,মমশাদ ভাই নিজকে এক্ষেত্রে লুকিয়ে রেখেছেন, আজ জামেয়ার ইতিহাস তুলে ধরে তার নিবন্ধ দেখে কিছু লেখলাম।করোনাকালের অখন্ড অবসরে কিছু স্মৃতি রোমন্থন করলাম।জামেয়ার সাথে আমার ভালোবাসা ও আন্দোলন-সংগ্রামে আমার সম্পৃক্ততার ইতিহাস অনেক দীর্ঘ। সময় পেলে লেখবো,ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ জামেয়াকে কবুল করুন,প্রিন্সিপাল রহ. এর কবরকে জান্নাতের উঁচু মাকাম করে দিন।আমার মরহুম উস্তাদদের জান্নাত দান করুন, জীবিতদের নেক হায়াত দান করুন। আমীন।
লেখক:রাজনীতিবিদ