ফেসবুকে ট্রল করা জঘন্য গুনাহ

সোশ্যাল মিডিয়া

শাহ মমশাদ আহমদ: প্রত্যেক মুসলমানেরই গুনাহ থেকে বেচে থাকা অপরিহার্য, আর তা যদি কাবীরা গুনাহ হয় তা তো আরও মারাত্মক।

বর্তমান প্রযুক্তির যুগে আমরা প্রতিনিয়ত কিছু মারাত্মক গুনাহ করে চলেছি,কিন্তু আমরা তা উপলব্ধি করতে পারছিনা,এর মধ্যে একটি হচ্ছে বরেন্য ব্যক্তি বা নিজের অপসন্দনীয় খ্যাতিমানদের নিয়ে ট্রল বা উপহাস করা।

মানুষের ভুল হতে পারে, ভুল হয়না এমন মানুষ খুজে পাওয়া মুশকিল, এক্ষেত্রে বক্তাদের ভুল একটু বেশীই হয়ে থাকে,যেহেতু তাদের অধিক কথা বলতে হয়,আর যে বেশী কথা বলে তার ভুল বেশি হওয়াই স্বাভাবিক, লেখকদের বেলায় ও তা প্রযোজ্য। এসব ভুলকে কেন্দ্র করে বক্তব্যের খন্ডিত অংশ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রল করা বর্তমানে স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। আমাদের ধর্মীয় মহলে তা মারাত্নক রুপ ধারণ করেছে, অনেকেই ট্রলবাজীকে গর্বের বিষয় মনে করে।

অথচ ইসলামে ট্রল করাকে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে নিষেধ করা হয়েছে।

আল্লাহ বলেন, হে মুমিনগণ, কোন পুরুষ যেন অপর কোন পুরুষকে উপহাস না করে,কেননা যাকে উপহাস করা হয় সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে,আবার কোন নারী যেন অপর কোন নারীকে উপহাস না করে,কেননা যাকে উপহাস করা হয়,সে উপহাসকারি অপেক্ষা উত্তম হতে পারে, তোমরা একে অপরের প্রতি উপহাস করোনা,এবং একে অপরকে মন্দ নামে ডেকোনা,ঈমান লাভের পর মন্দ নামে ডাকা গর্হিত কাজ,যারা তাওবা না করে তারা জালেম,(সুরা হুজুরাত,১১)

যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কাউকে ট্রল করছেন,তারা কিন্তু কখনো চিন্তা করেননা,এট্রলের ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পারিবারিক, সামাজিক ও সাংগঠনিক সম্মানহানি ঘটে, কারো সম্মানহানি করা মারাত্মক গুনাহের কাজ।প্রিয়নবী সঃ এব্যাপারে মানুষকে বারবার সতর্ক করেছেন, রাসুলুল্লাহ সঃ বলেন,নিঃ সন্দেহে কারো রক্ত ঝরানো, কারো সম্পদ হরণ করা,বা কারো সম্মানহানি করা হারাম।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোন একটি বিষয় নজরে আসলেই সে বিষয় নিয়ে ব্যঙ্গ শুরু হয়ে যায়,স্বাভাবিকত যে ভুলগুলো সাধারণ মানুষ বুঝতে পারেনা ট্রলের কারণে তারা ও একেকজন আলেমের ভুলত্রুটিগুলো জেনে যায়,প্রিয় নবী সঃ বলেন, কেউ যেন অপর মুসলিম ভাইয়ের ত্রুটি প্রচার না করে।

সে মুসলিম ভাই যদি একজন আলেম হোন,তার দোষত্রুটিগুলো লুকিয়ে রেখে সংশোধনের চেষ্টা করাই ইসলামের দাবি।

কোন অখ্যাত ভিন্ন মতের বক্তা নিজের মর্যাদা তুলে ধরতে মিথ্যা অবাস্তব হাস্যকর জ্ঞানভান্ডারের অধিকারী হওয়ার দাবী করল,আর তা নিয়ে ট্রল করে মিথ্যাবাদীকে ভাইরাল করার মাধ্যমে আইয়ামে জাহেলিতের সময় কাফেররা যেভাবে ইসলামের প্রচার করার বোকামি করেছিল,তা হচ্ছে কিনা,একটু ভাবা উচিত নয় কি?

কোন কোন ভাই,সংশোধনের জন্য ট্রল করছেন দাবী করে থাকেন, অথচ ইসলামে ইসলাহ বা সংশোধনের জন্য উত্তম পদ্ধতি রয়েছে।

ব্যক্তিগত মাধ্যম ব্যবহার করে একান্তে কথা বলা,জনসম্মুখে হেয় করা যাবেনা।

দ্বীনো কোন বিষয় হলে গঠন মুলক দালীল ভিত্তিক শালীন ভাষায় আলোচনা করা যেতে পারে।কখনো উপহাস করে নয়।

আল্লাহ আমাদের গুনাহ থেকে হেফাজত রাখুন।

মুহাদ্দিস, জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া কাজিরবাজার, সিলেট। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *