বইমেলায় ইসকনের স্টল: লেখকদের তীব্র প্রতিবাদ

শিল্প ও সাহিত্য সারাদেশ

বিশেষ প্রতিবেদক: প্রতিবছরই ফেব্রুয়ারিতে একুশে বইমেলার আয়োজন করে বাংলা একাডেমি।বইমেলায় ইসলামি সাহিত্যের বইকে উপেক্ষা করা হয়।ইসলামি বইয়ের প্রদর্শণী অলিখিতভাবে বইমেলায় নিষিদ্ধ।ধর্মীয় ভাবধারার প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান বইমেলায় স্টল বরাদ্দ না পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অথচ মুসলিম প্রধান দেশে ইসলামি সাহিত্যকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত ছিলো। নব্বই পার্সেন্ট মুসলিম দেশের একুশে বইমেলায় ইসলামী প্রকাশনাগুলো বরাদ্দ না পেলেও এবার বরাদ্দ পেয়েছে বহুল সমালোচিত উগ্রবাদী হিন্দুয়ানি সংগঠন ইসকন। বইমেলার ৭৪ নম্বর স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ইসকনকে, যার বিরুদ্ধে উগ্র সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গি মতবাদ লালনের অভিযোগ রয়েছে।বাংলা একাডেমির সংকীর্ণতা ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণে লেখকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
এ বিষয়ে ভয়েস টাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকম লেখকদের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তাঁরা বাংলা একাডেমির তীব্র সমালোচনা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিশিষ্ট লেখক ও চিন্তক জিয়াউর রহমান বলেন,
মূলত একুশে বই মেলায় স্টল বরাদ্দ দেয় বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ৷ ইসলামি প্রকাশনীগুলো তাদের কাছে বারবার স্টল বরাদ্দের জন্যে গেলেও তারা সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ তুলে স্টল বরাদ্দ দেয় নি৷ অথচ নব্বই ভাগ মুসলমানের দেশে ইসলামি প্রকাশনীগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্টল বরাদ্দ পাওয়ার কথা ছিলো৷

অপরদিকে উগ্র সাম্প্রদায়িক সংগঠন ‘ইসকন’ অবলীলায় স্টল বরাদ্দ পায়৷ এটা বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষের দ্বিমুখী আচরণের বহিঃপ্রকাশ৷ পাশাপাশি ইসলামি সাহিত্য চর্চায় তাদের অসহযোগিতার নামান্তর৷আমি মনে করি বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত৷ পাশাপাশি বাংলা একাডেমির মতো একটি ঐতিহ্যবাহি জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে সমালোচনার ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করার স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহবান জানাই৷ উতি উৎসাহি কারো দ্বারা যেন প্রতিষ্ঠানটি প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট মহলের সচেতন দৃষ্টি নিবদ্ধের আহবান জানাই৷

বইমেলায় ইসকনের স্টল বরাদ্দ পাওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করে বাংলা একাডেমির তীব্র সমালোচনা করেন বিশিষ্ট লেখক, গ্রন্থকার ও কথাসাহিত্যিক সাদিকুর রহমান। তিনি বলেন,বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠাই করা হয়েছে মুসলিম সমাজের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধের বই প্রকাশের জন্য।শুরুতে তারা অনেক ইসলামি বই-পুস্তক প্রকাশ ও করেছে।মাওলানা মনিরুজ্জামানের রচনা সমগ্র সহ প্রচুর ইসলামি সাহিত্য -সংস্কৃতির বই তারা ছেপেছে।সময়ের পরিবর্তনে বাংলা একাডেমি কেমন যেন হয়ে গেলো।একটা সময় আমরা বিস্ময়করভাবে আবিষ্কার করলাম তারা ইসলামি সাহিত্যকে সহ্য করছে না।ইসলামি বই প্রকাশ করছে না এমনকি বইমেলায় ইসলামি প্রকাশনীগুলোকে স্টল ও বরাদ্ধ দিচ্ছে না।সচেতন মহলকে এটা নিয়ে ভাবতে হবে।উগ্র সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়ানো ইসকনকে স্টল বরাদ্দ দিয়ে বাংলা একাডেমি তাদের দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটালো।তাদের এমন আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং ইসকনের বরাদ্দকৃত স্টল বইমেলা থেকে সরিয়ে দেয়ার আহবান জানাই।

কলামিস্ট ও প্রাবন্ধিক মুহাম্মদ আবদুল হামিদের কাছে এ বিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া কী জানতে চাইলে এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন,উগ্রবাদী হিন্দু সংগঠন ইসকন বইমেলায় স্টল বরাদ্দ পায় অথচ ইসলামী প্রকাশনীগুলো স্টল বরাদ্দ পায় না, এটা ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে খুবই দুঃখজনক ব্যাপার।

ইসকনের বিরুদ্ধে উগ্রসাম্প্রদায়িক মতবাদ প্রতিষ্ঠা ও দেশে সম্প্রীতি বিনষ্টের অভিযোগ থাকা সত্তেও তারা বইমেলায় স্টল পায়, আর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মডেল ইসলামী প্রকাশনীগুলো স্টল বরাদ্দ পায় না- এটা এদেশের ইসলামপ্রিয় তৌহিদী জনতা মেনে নেবে না। শান্তিপ্রিয় মুসলিম জনতা বইমেলায় ইসকনের স্টল দেখতে চায় না। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা দীর্ঘ দিন থেকে ইসকনের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবী জানিয়ে আসছে।

প্রসঙ্গত, ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকায় বাংলা একাডেমির আয়োজনে শুরু হয়েছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০ | উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । এদিন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরষ্কার ও হস্তান্তর করা হয়।