বায়তুল মোকাররামে হেফাজতের বিক্ষোভ: কঠোর কর্মসূচীর হুঁশিয়ারী

জাতীয়

চট্টগ্রামের হাটহাজারীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও পেটুয়া পুলিশ বাহিনীর হামলায় ৫ জন শাহাদত বরণ করার প্রতিবাদে আজ বেলা ১২ টায় হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমের উত্তর গেটে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মহাসচিব আল্লামা নূরুল ইসলাম।

হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরীর সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, গতকাল সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের স্বতঃস্ফুর্ত বিক্ষোভ চলাকালে রাজধানী ঢাকার বায়তুল মুকাররমে ছাত্রলীগ, যুবলীগের সন্ত্রাসী বাহিনী মসজিদে প্রবেশ করে সাধারণ মুসল্লীদের উপর নির্বিচারে হামলা চালায়। এতে অসংখ্য মুসল্লী আহত হয়। এরই প্রতিবাদে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও ছাত্রজনতা রাজপথে নেমে এলে পুলিশ ও ছাত্রলীগ, যুবলীগ বিক্ষোভকারীদের উপর নির্বিচারে হামলা ও গুলি চালায়, এতে হাজাহাজারী মাদরাসার ৪ জন ছাত্র শাহাদত বরণ করে। বি. বাড়িয়ায় বিক্ষোভ প্রদর্শন কালে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের উপর হামলা ও গুলি চালালে সেখানেও ১ জন নিহত ও অসংখ্য বিক্ষোভকারী আহত হয়। ঢাকার যাত্রাবাড়িতে বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের সন্ত্রাসী বাহিনী হামলা চালায়। এভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ বিক্ষোভকারীদের উপর নির্বিচারে হামলা ও গুলি চালানো হয়। আমরা এসব হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

সমাবেশে বক্তাগণ বলেন, আজ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর আনন্দঘণ মুহূর্ত অতিবাহিত হচ্ছে। এই স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী স্বতঃস্ফুর্তভাবে পালনের নিমিত্তে আমরা হেফাজতে ইসলামসহ ইসলামী দল সংঘাতপূর্ণ যে কোন কর্মসূচি থেকে বিরত ছিলাম। কিন্তু এই দিনে সরকার তার দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীকে কলঙ্কিত করেছে।

বক্তাগণ বলেন, আমরা আগে থেকেই সরকারকে সতর্ক করে আসছিলাম যে, গুজরাটের কসাই খ্যাত নরেন্দ্র মোদীকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে অতিথি করলে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু বিনাভোটের সরকার জনগণের হৃদয়ের মর্মবাণী বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। এরই প্রেক্ষাপটে যখনই এই কসাই মোদীর বাংলাদেশে আগমন ঘটে, সাধারণ জনগণ তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে রাজপথে নেমে আসে। জনবিচ্ছিন্ন এই সরকার তাদের দমন করতে বেছে নেয় রাবার বুলেট। রাজপথে ঝরে যায় ৫টি তাজা প্রাণ।

বক্তাগণ আরো বলেন, এই মোদীর ইতিহাস রক্তের ইতিহাস। সে যখন গুজরাটে থাকে, তখন গুজরাট রক্তাক্ত হয়। এই মোদী যখন কাশ্মীরে হাত দেয়, তখন কাশ্মীয় রক্তাক্ত হয়, এরই ধারাবাহিকতায় এই মোদী যখন বাংলাদেশে এলো, আজ আমার দেশের রাজপথ রক্তে রঞ্জিত হলো। কাজেই এই মোদীকে এদেশের জনগণ এক মুহূর্তের জন্যও চায় না।

বক্তাগণ দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোঘণা করেন, ৫ শহীদের রক্তের বদলা নিতে আগামীকাল রোববার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে চাই, যদি আমাদের হরতালের কর্মসূচিতে বাধা প্রদান করা হয়, যদি আমাদের কোন কর্মী হতাহত হয়, যদি কোন জায়গায় হাটহাজারী-বি.বাড়িয়ার পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে আগামীদিনে ঢাকাকে সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা যোবায়ের আহমদ, মাওলানা জসিম উদ্দিন, মাওলানা ফজলুর রহমান কাসেমী, মাওলানা সাখাওয়াত হুসাইন রাজি, মাওলানা হাসান জামিল, মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ, মাওলানা মূসা বিন ইজহার, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, মাওলানা ইলিয়াস হামিদী, মাওলানা মুহিব খান, মাওলানা গাজী ইয়াকুব, মাওলানা ফয়সাল আহমদ, মাওলানা সুলতান মুহিউদ্দিন, মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, অধ্যাপক আব্দুল জলিল, মাওলানা আবু তাহের খান, মাওলানা আব্দুল মুমিন, মাওলানা মুহসিনুল হাসান প্রমুখ।

জেআর/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *