বেফাক নেতৃবৃন্দের ফোনালাপ ফাঁসে উত্তাল স্যোশাল মিডিয়া; কী বলছেন মহাপরিচালক

সাক্ষাৎকার সোশ্যাল মিডিয়া

ভয়েস টাইমস: বেশ কয়েক দিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড-বেফাকের নেতৃবৃন্দের অডিও ফোনালাপ। ফাঁস হওয়া ফোনালাপের ভয়েসগুলোতে আছে প্রশ্নপত্র ফাঁস, বেফাকের খাস কমিটি বাতিল, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নিয়োগের তদবির, বর্তমান বেফাকের মহাপরিচালক মাওলানা যুবায়ের আহমদ চৌধুরীকে মাইনাস মিশনসহ নানা ষড়যন্ত্রের কথা।

এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সমালোচনার ঝড় ওঠেছে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে বেফাক মহাপরিচালককে মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস কর্তৃক বরখাস্ত করার হুমকি ও এ নিয়ে নিয়ে ফেসবুক পাড়া উত্তাল হতে দেখা যাচ্ছে। বিবদমান এ পরিস্থিতিতে সার্বিক বিষয়ে বেফাকের মহাপরিচালক অধ্যাপক মাওলানা যোবায়ের আহমদ চৌধুরী এর সাথে কথা বলেন সাংবাদিক হাসান আল মাহমুদ

হাসান আল মাহমুদ: আপনার সাথে নাকি মহাসচিব সাহেবের ফোনালাপে উত্তপ্ত কথাবার্তা হয়েছে, তিনি নাকি আপনাকে বরখাস্ত করার হুমকি দিচ্ছেন, এটা কতটুকু সত্য?

মহাপরিচালক: না না, এরকম কিছু না। আমার সাথে উনার উচ্চবাচ্চ কথা হয়নি। এইটা ভুয়া কথা। উনার সাথে আবু ইউসুফ সাহেবের যে ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে, ওটাতে নাযিম কর্তৃক আমাকে মাইনাস করা ও নাযিমের কীর্তিকলাপ, আমাকে সরানোর শলামর্শ, এসব নিয়ে একটু কথাবার্তা হয়েছে।

হাসান আল মাহমুদ : আপনাকে কোনো চাপ সৃষ্টি করেছে কি না, বিবৃতি দিতে এ ব্যাপারে কোনো চাপ সৃষ্টি করেছে কি না?

মহাপরিচালক: চাপ আসছিল বিবৃতি দিতে, আমি অসম্মতি প্রকাশ করেছিলাম, বলেছি, পারব না।

হাসান আল মাহমুদ : আবু ইউসুফ সাহেবের ব্যাপারে যে তথ্যগুলো বের হচ্ছে তা কতটুক সত্য?

মহাপরিচালক: এ প্রসঙ্গে আমি কোনো কথা বলতে পারব না। যে অডিও ফাঁস হয়েছে, তাতে তো আছে, সেখানে আমার মন্তব্য করার কী আছে।

হাসান আল মাহমুদ : ইউসুফ সাহেব নাকি বেফাক থেকে উনার কাগজপত্র ইত্যাদি নিয়ে গেছেন, তা কি সত্য?

মহাপরিচালক: তিনি কি করছেন না করছেন সে ব্যাপারে আমি জানি না। তবে, তিনি কয়েকদিন ধরে অফিসে নিজের রুমে থাকেন। কিন্তু এ ঘটনার পর থেকে তিনি একরকম অফিসের কারো সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করেন না। রুমেই থাকেন। গতকালকে আফটার নুনে অসুস্থতার কারণে তিনি ছুটি চেয়ে দরখাস্ত করেছেন। আমি ছুটি দেই নাই। আমি বলেছি, আপনাকে এ মুহূর্তে ছুটি দিতে পারব না। এরপরে রাতে তিনি নিজের বই, কাপড়-চোপড় ইত্যাদি উনার পিওন দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তখন আমি অফিসের কিছু আছে কি না চেক করাই। দুইটা বই আমাদের অফিসের ছিল, আর কিছু পাওয়া যায়নি আমাদের। এরপরে আমি সাড়ে নয়টার দিকে অফিস থেকে চলে এসেছি বাসায়। পরে জানতে পারলাম তিনি সাড়ে দশটার দিকে অফিস ছেড়ে চলে গেছেন। এখন তিনি কই গেছেন সেটা আমি জানি না।

হাসান আল মাহমুদ : আজকে নাকি বেফাকের দায়িত্বশীলদের মিটিং হবার কথা, সেটা কি হবে আজ?

মহাপরিচালক: আগামীকাল হবে।

হাসান আল মাহমুদ : এ মিটিংয়ে নাকি বেফাকের কেন্দ্রীয় ও বার্ষিক পরীক্ষা কুরবানীর আগেই নেয়ার সিদ্ধান্ত নেবে, এরকম কিছু?

মহাপরিচালক: না, এসব নিয়ে কোনো এজেন্ডা নেই। মহাসচিব ও আবু ইউসুফ নিয়ে যে অডিও ও তথ্যাদি ফাঁস হয়েছে, এইটার উপর জরুরি মিটিং হবে আগামীকাল। আর দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা বিষয়ে আজকে বেলা ১১টায় হাইয়াতুল উলইয়ার মিটিং হবে। বেফাকের কেন্দ্রীয় পরীক্ষা মাদরাসা না খোলা পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। মাদরাসা খোলার পরে আমরা আবার বসব। তারপর ভেবে চিন্তে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *