মাওলানা মাহফুজুল হক : সরল সহজ জীবনের উপমা

খোলা জানালা

মুহাম্মদ এহসানুল হক

মাওলানা মাহফুজুল হকের সাথে এই বানোয়াট চিঠি নিয়ে যখন আমার প্রথম আলাপ হয় তখন উনার প্রতিক্রিয়া ছিলো এমন -আমার কাছে বেফাক এক টাকা পাবে এই কথা যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে তাহলে শুধু বেফাক না, সমস্ত দায়িত্ব থেকে আমি পদত্যাগ করবো। এটা আমি চ্যালেঞ্জ করে বললাম। আমার পক্ষ থেকে তোমরা এই ঘোষণা দিয়ে দাও। নিজের উপর কতটা আস্থা থাকলে এমন দৃঢ়তার সাথে প্রতিবাদ করা যায়।

তবুও আমাদের জবাব দেয়ার ইচ্ছা ছিলো না। কোথাকার কোন নাম পরিচিয়হীন আইডি থেকে কে একটা চিঠি দিলো, আমরা কেনো সেটার জবাব দিতে যাবো। এমন ভিত্তিহীন চিঠির জবাব দেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু কওমি মাদরাসা ও বেফাকের বিভিন্ন দূর্নীতি নিয়ে পরিস্থিতি এখন ঘোলাটে। তরুন প্রজন্ম এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার। এজন্যই ইনবক্স ও ফোনে অনেক কাছের মানুষ জবাব দেয়ার জন্য বললেন। তখন অনেকটা বাধ্য হয়ে মামুন মামা জবাবে কিছু লিখলেন। আমিও লিখলাম।

মাওলানা মাহফুজুল হক অনেকটা রিজার্ভ প্রকৃতির মানুষ। চুপচাপ থাকেন। কোনো ঝামেলার আগে পিছে থাকেন না। এজন্যই তিনি পরিচিত মুখ হলেও তাকে নিয়ে কথা কম হয়। আজ প্রসঙ্গ আসায় মনে হলো কিছু লেখি। মাওলানা মাহফুজুল হক কতটা সাধারণ জীবন যাপন করেন তা না দেখলে বিশ্বাস করার মতো নয়। ১৯ বছর যাবৎ রাহমানিয়ার মতো এত বড় একটি প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল। অথচ তার জীবনে বিন্দুমাত্র জৌলুস নাই।

রাহমানিয়ায় তার কোনো বিশেষ রুম নেই। টেবিল, চেয়ার নেই। এসি তো কল্পনাতীত। বিশ্বাস হয়? এটাই সত্য। বিশ্বাস না হলে আসতে পারেন রাহমানিয়ায়। একটা অফিস রুম আছে। তোশকের উপর তিনি বসেন। বইপত্র সব তোশকের এক পাশে রাখা। সামনে একটা পুরানো ডেস্ক। এখানে বসেই কাজ করেন। বিশ্রামের প্রয়োজন হলে এখানে শুয়ে পরেন। রাহমানিয়ায় এখন টুকটাক সংস্কারের কাজ চলছে। একদিন আমাকে আরও কিকি করতে চান সেগুলো বলছিলেন। আমি বললাম, আপনার জন্য একটা ভালো রুম দরকার। তিনি বললেন, কি দরকার! আমার চলছে তো!

দুইতিন বছর আগের কথা। মুহাম্মাদপুর বেড়িবাধে তখন ছাদখোলা বেবিটেক্সি চলতো। আমি কখনোই উঠতাম না। মাহফুজ মামা দিব্যি উঠতেন। একদিন ঘটনাক্রমে মাহফুজ মামা আর আমি একসাথে ঢাকা উদ্যান যাবো। তিনি আমাকে নিয়েই ছাদখোলা বেবিটেক্সিতে উঠলেন। তিনি বুঝতে পারলেন আমার হয়তো ভালো লাগছে না। তিনি বললেন, ছাদখোলা বেবিটেক্সিতে অনেকে উঠতে চায় না। কিন্তু আমার কাছে খারাপ লাগে না। এখনো তিনি রিকশা, সিএনজি ও বাসে করেই যাতায়াত করেন। তার কোনো গাড়ি নেই। এই লকডাউনের আগেও তাঁর সাথে রজনীগন্ধ্যা বাসে করে মুহাম্মাদপুর থেকে পল্টনে গিয়েছি।

এমন একটা মানুষের বিরুদ্ধে এ ধরণের অপবাদ? এটাতো আর সময় টিভির কান্ড না। এটা এই কওমি মহলের কেউই করেছে। সামন্য পদ পদবির সার্থে আমরা কতটা নিচে নামতে পারি? মাওলানা মাহফুজুল হকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এটা নতুন না। আগেও হয়েছে। সিন্ডিকেট করে তার ন্যয্য পদাধিকার ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। তবুও তিনি বেফাক থেকে সরে যাননি। কর্মকান্ড বন্ধও করেননি। নিরবে কাজ করে যাচ্ছেন।

মাওলানা মাহফুজুল হক বেফাকের ১৫ বছর যাবৎ যুগ্ম মহাসচিব। বিভিন্ন সূত্রে কাছের এমন অনেকেই বেফাকের গুরুত্বপূর্ণ নানান পদে আছেন। চাইলে তিনিও অন্য অনেকের মত তাদের নিয়ে বলয় সৃষ্টি করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। এখনো নিরব্বিচ্ছিন্নভাবে বেফাকের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। কখনো যদি কেউ বলে, আপনার বিরুদ্ধে এসব হচ্ছে, উত্তর থাকে একটাই- সমস্যা নাই। আল্লাহ ভরসা।

তাই বলি, চক্রান্তকারীরা করুক ষড়যন্ত্র। ষড়যন্ত্রকারীদের কাছে এই জীবনে আপনি হেরে গেলেও আমার কোনো দুঃখ নেই।