যাকাতের গুরুত্ব ও ফজিলত

ইসলাম
  • মুফতী সৈয়দ নাছির উদ্দিন আহমদ     

ঈমানের পর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য ইবাদত হল সালাত ও যাকাত । কুরআন মাজীদে বহু স্থানে সালাত-যাকাতের আদেশ করা হয়েছে এবং আল্লাহর অনুগত বান্দাদের জন্য অশেষ ছওয়াব, রহমত ও মাগফিরাতের পাশাপাশি আত্মশুদ্ধিরও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

যাকাতের আভিধানিক অর্থ বৃদ্ধি পাওয়া,পবিত্রতা লাভ করা,প্রাচুর্য ,প্রশংসা।
পারিভাষায় যাকাত হলো,যাকাত দাতার স্বত্ব থেকে ফায়েদা লাভের সার্বিক মালিকানা দূর করার শর্তে আল্লাহর উদ্দেশ্যে হাশেমী ও তার দাস নয় এমন মুসলিম অভাবী ব্যক্তিকে মালের মালিক বানিয়ে দেয়ার নাম যাকাত।

আল্লাহ পাক বলেন, তোমরা সালাত আদায় কর,
যাকাত দাও এবং রাসূলের আনুগত্য কর যাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হতে পার।’(সূরা নূর : ৫৬)

আল্লাহ পাক এরশাদ করেন,আমি তাদেরকে যে রিযক দিয়েছি,তা থেকে তারা যেন গোপনে এবং প্রকাশ্যে ব্যয় করে-সেদিন আসার আগে যেদিন কোনো বেচাকেনা নেই, আর নেই কোনো বন্ধুত্বও।(সুরা ইব্রাহীম ৩১)

আর সে সম্পদ থেকে ব্যয় কর,তিনি তোমাদেরকে যার উত্তরাধিকারী করেছেন।(সুরা হাদীদ ৭)

যাকাত আদায়ের অনেক ফজিলত রয়েছে।আল্লাহ পাক বলেন, এবং যারা সালাত আদায় করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে আমি তাদেরকে মহাপুরস্কার দিব।’(সুরা নিসা: ১৬২)

আবূ আইয়ুব ( রা:) থেকে বর্ণিত একটি লোক নবী (সা:) কে বলল, আমাকে একটি আমল বলুন,যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে ।
তিনি বললেন,আল্লাহর বন্দেগী করবে,আর তার সাথে কোন কিছুকে শরীক করবেনা । নামায কায়েম করবে,যাকাত দেবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখবে । ( বুখারী হাদীস ১৩৯৬ , মুসলিম হাদীস,১৩)

মনে রাখতে হবে মহান আল্লাহ পাক আমাদের জন্য যাকাতের যে বিধান ফরজ করেছেন,তা কোন ট্যাক্স নয় যে,একে ভারি বোঝা মনে করা হবে ; বরং এটি আল্লাহর দেওয়া আমানত তাঁর সামর্থ্যবান বান্দার কাছে ফেরত চাচ্ছেন।এটাকে ভারি মনে করার তো সুযোগই নেই।কারণ আল্লাহ পাক তো নিজেই বলছেন,আমি তোমাদের মাল চাচ্ছিনা ; বরং আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছি,
এর থেকে সামান্য কিছু নিতে চাই,যেন দাতা ব্যক্তির কাছে তা ভারি বোঝা না ঠেকে ; বরং হালকা বিষয় মনে হয়।

তাছাড়া আল্লাহ পাক অন্যত্র এরশাদ করেন,তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করুন,যার দ্বারা আপনি তাদেরকে পবিত্র করবেন এবং পরিশোধিত করবেন এবং আপনি তাদের জন্য দুআ করবেন। আপনার দুআ তো তাদের জন্য চিত্ত স্বস্তিকর। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’(সূরা তাওবা : ১০৩)

এ সত্ত্বেও যারা ফরজ যাকাত আদায় করে না তারা কত বড় ক্ষতিগ্রস্তের শিকার! তারা যাকাতের সকল সুফল থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আল্লাহর আদেশ অমান্য করার কারণে ভয়াবহ কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

কুরআনে ইরশাদ হয়েছে,আর আল্লাহ পাক নিজ অনুগ্রহে যা তোমাদেরকে দিয়েছেন তাতে যারা কৃপণতা করে তারা যেন কিছুতেই মনে না করে যে, এটা তাদের জন্য মঙ্গল। না,এটা তাদের জন্য অমঙ্গল। যে সম্পদে তারা কৃপণতা করেছে কিয়ামতের দিন তাই তাদের গলায় বেড়ি হবে।আসমান ও যমীনের স্বত্ত্বাধিকার একমাত্র আল্লাহরই।তোমরা যা কর আল্লাহ তা বিশেষভাবে অবগত। (সূরা আল-ইমরান : ১৮০)

আল্লাহ পাক যেন আমাদেরকে সঠিকভাবে তার ফরজ বিধিবিধান যথাযথভাবে পালন করার তাওফিক দান করেন।আমীন।