লকডাউনে ঈদের নামাজ:যা বললেন মুফতী মুহাম্মদ শফীকুর রহমান

ইসলাম ফিচার

 

দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদ।দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর সামনে। এদিকে কোভিড-১৯ সংক্রমণজনিত কারণে সব ধরণের গণজমায়েত নিষিদ্ধ।তাই ঈদের জামাত কীভাবে হবে? এ নিয়ে চলছে সর্বত্র আলোচনা।

করোনাভাইরাসের মহামারীর মধ্যে এবার রোজার ঈদের দিন ঈদগাহ বা খোলা জায়গার বদলে বাড়ির কাছে মসজিদে ঈদের নামাজ পড়তে বলেছে সরকার।

সেইসঙ্গে মসজিদে ঈদ জামাত আয়োজনের ক্ষেত্রে সুরক্ষার ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বেশ কিছু শর্ত দিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

তাই চলমান পরিস্থিতিতে মুসলমানদের অন্যতম বড় উৎসব ঈদুল ফিতরের নামাজ কীভাবে পড়া হবে? ইসলামী শরীয়াহর আলোকে লকডাউনে ঈদের নামাজ আদায় করার পদ্ধতি জানতে ভয়েসটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশেষ প্রতিবেদক মনসুর আহমদ কথা বলেছেন ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া কাজিরবাজারের শিক্ষাসচিব ও ইফতা বিভাগের প্রধান মুফতী মুহাম্মদ শফীকুর রহমানের সাথে।

এ ব্যাপারে ইসলামী শরীয়াহ বিশেষজ্ঞ মুফতী মুহাম্মদ শফীকুর রহমান বলেন,

ঈদ মুসলমানদের আনন্দের দিন। ঈদের দিনের প্রধান কাজ হলো ঈদের নামাজ আদায় করা। ঈদের নামাজ সাধারণত খোলা মাঠে আদায় করাই সুন্নাহ। মসজিদে না পড়ে খোলা ময়দানে পড়াই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু যদি কোন উজরের কারণে কেউ মসজিদে ঈদের জামাত পড়েন, শরীয়তের দৃষ্টিতে তাতে কোন অসুবিধা নেই।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে আমাদের দেশে সরকারি সিদ্ধান্ত ও বিধি-নিষেধের কারণে মসজিদে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ পড়ার যে নির্দেশনা দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয় তা আমাদের জন্য মানা উচিত। এজন্য সওয়াবের মধ্যে কোন কমতি হবে না। নামাজ শুদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রেও কোন ত্রুটি আসবে না। কারণ এটা একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি ও উজরের জন্য। স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে ঈদের নামাজ পড়া যাবে ইনশাআল্লাহ, কোন অসুবিধা হবে না।

বাসা বাড়িতে ঈদের নামাজ পড়া যাবে কি না? এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রাজ্ঞ এই আলেম বলেন, যদি বাসাতে কমপক্ষে চারজন লোক থাকেন, আর তাদের পক্ষে জামাত কায়েম করা সম্ভব হয়, তাহলে একজন ইমাম হবেন। তিনজন মুসল্লি হবেন, এভাবে তারা ঈদের নামাজ পড়তে পারবেন। খুতবা দেওয়া সুন্নাহ। সম্ভব হলে খুতবাও পড়বেন। দীর্ঘ খুতবা পড়ার কোন প্রয়োজন নাই।কুরআনের কোন আয়াত, দুরূদ শরীফ, তাসবিহ এগুলো দ্বারাও খুতবা আদায় হয়ে যায়।
বাসা বাড়িতে ঈদের নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে যে, যেখানে বা যে ঘরে বা বাড়ির উঠানে তারা নামাজ পড়বেন আশেপাশের লোকেরা যেন সেটা জানতে পারেন, যেন কারো শরিক হওয়ার ইচ্ছা থাকলে শরিক হতে পারেন। শরিক হওয়ার সুযোগের প্রতি লক্ষ্য রাখা।যে কোন ব্যক্তির নামাজে অংশ গ্রহণে প্রতিবন্ধতার পথ বন্ধ রেখে ‘ইযনে আমের’ সুযোগ থাকতে হবে।

পরিশেষে জনস্বার্থে সরকারি নির্দেশনা মেনে শরিয়ত সম্মতভাবেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাই ঈদের জামাত আদায় করার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকার আহবান জানান তিনি।

প্রসঙ্গত,গত সপ্তাহে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইসলামী শরিয়তে ঈদগাহ বা খোলা জায়গায় ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়তে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। “কিন্তু বর্তমানে সারা বিশ্বসহ আমাদের দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিজনিত ওজরের কারণে মুসল্লিদের জীবন ঝুঁকি বিবেচনা করে এবছর ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে ঈদের নামাজের জামাত নিকটস্থ মসজিদে আদায় করার জন্য অনুরোধ করা হল।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *