শাপলা চত্বর: ইসলামি বিপ্লবের মাইলফলক

সম্পাদকীয়

মুহাম্মদ মাহবুবুল হক: আজ ঐতিহাসিক ৫ মে। হেফাজতে ইসলামের ঐতিহাসিক ঢাকা অবরোধ ও শাপলা চত্তরে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচী ছিলো ২০১৩ সালের এই দিনে।নাস্তিক- মুরতাদদের ইসলামের বিরুদ্ধে কটুক্তি,আল্লাহ ও রাসূল স.কে নিয়ে চরম নির্লজ্জ বিদ্বেষ এবং অপপ্রচারের প্রতিবাদে আল্লামা আহমদ শফীর ডাকে বাংলার ঘরে ঘরে আন্দোলনের দাবানল জ্বলে উঠেছিলো।

নাস্তিকদের ফাঁসির দাবিতে দ্রোহ ও ক্ষোভের বহ্নিশিখা প্রজ্জ্বলিত হয়েছিলো মুমিন হৃদয়ে। নাস্তিক-মুরতাদদের বেপরোয়া আস্ফালনের প্রতিবাদ জানাতে বাধার প্রচীর ডিঙ্গিয়ে ঈমানী বল নিয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে রাজধানীর শাপলা চত্তরে অবস্থান করেছিলেন লক্ষ লক্ষ নবী প্রেমিক।

হেফাজতের ১৩ দফা বাস্তবায়ন ও ব্লাসফেমী আইন প্রণয়নের দাবিতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে রাষ্ট্রীয় বাহিনী নির্বিচারে নির্মম ও নিষ্ঠুর নির্যাতন চালায় অসহায় হেফাজত কর্মীদের উপর।সরকারী বাহিনীর গুলি -বুলেটে জাজরা হয় অনেক নবীপ্রেমিকের বুক।পুলিশের গুলিতে নিহত হয় অনেক হেফাজত কর্মী।আল্লাহ-রাসূলকে স. কটুক্তিকারীদের বিচারের দাবিতে অবরোধে যাওয়া অনেক হেফাজত কর্মী বেলা শেষে ঘরে ফেরেন লাশ হয়ে।বাংলাদেশের ইতিহাসে এ দিন শোকের দিন।রাষ্ট্রীয়ভাবে জনগণকে নির্মম হত্যা ও নির্যাতনের দিন।

শাপলার রক্তস্নাত ইতিহাস আমাদের শোককে শক্তিতে পরিণত করার প্রেরণা যুগায়।শাপলার ইতিহাস নবী প্রেমে উজ্জিবিত হওয়ার ইতিহাস।আগামী দিনে দ্বীন বিজয়ের সংগ্রামে আমাদের চেতনা ও প্রেরণার ইতিহাস।শাপলার নিহতদের আল্লাহ শহীদ হিসেবে কবুল করুন।

ইসালামি শক্তির উত্থানে নাস্তিক্যবাদী মহলের কম্পন শুরু হয় সেদিন।শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে রক্তপিপাসু আওয়ামীলীগ সরকার ইতিহাসের জঘন্যতম নির্মম গণহত্যা চালায় রাতের আধাঁরে।ঘুমন্ত,ইবাদতরত হেফাজত কর্মীদের উপর নির্বিচারে ন্যাক্কারজনক অপারেশন চালায় সরকারের যৌথবাহিনী।শাপলা ট্র্যাজেডীর রাতে শতশত নবীপ্রেমিককে শহীদ করা হয়েছে।

আরো পড়ুন: সাদা শাপলা মজলুমের রক্তে লাল হয়ে যাবার দিন আজ

অধিকারের তথ্যমতে,শাপলার শহীদের সংখ্যা দুইশত পঞ্চাশ জনেরও অধিক।ক্র্যাকডাউন শাপলার পর বুড়ি গঙ্গা নদীতে ও রাজধানীর বিভিন্ন ট্রেইনে লাশ পাওয়া গিয়েছিলো।তাছাড়া লাশ ভারতে পাচারেরও অভিযোগ আছে।ইসলামি শক্তির পূর্ণজাগরণের এই উত্থান আমাদের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।ইসলামি বিপ্লবের মাইলফলক হবে।শাপলা চত্তরে শাহাদত বরণকারী সকলের দরজা বুলন্দি কামনা করি।আহত হয়ে যারা অঙ্গহানি,পঙ্গুত্ব ও শারিরীক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন,তাদের এই মহান ত্যাগ আল্লাহ কবুল করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *