শুরু হলো অমর একুশে গ্রন্থমেলা

শিল্প ও সাহিত্য সংবাদ

বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০২০ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার বিকেল ৪টা ২০মিনিটে বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গণে বইমেলার উদ্বোধন করেন তিনি।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের বইমেলা জাতির পিতার প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে। এই জন্য বাংলা একাডেমিকে ধন্যবাদ জানাই। বাংলা সাহিত্যে অবদান রাখার জন্য যারা পুরস্কার পেয়েছেন তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দিতে পেরে আমি আনন্দিত।

উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা, পদক ও অর্থমূল্য ৩ লাখ টাকার চেক তুলে দেন।

এবারের বইমেলার থিম হচ্ছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ। মুজিববর্ষ উপলক্ষে এবারের বইমেলা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎসর্গ করা হচ্ছে। মেলার বিন্যাসের মাধ্যমে মুজিববর্ষের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সে অনুযায়ী এবছর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মেলা প্রাঙ্গণটি ‘শিকড়’, ‘সংগ্রাম’, ‘মুক্তি’ ও ‘অর্জন’ এ চারটি নামে নামকরণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠান মঞ্চের আলোচনার বিষয়ও হচ্ছে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে। প্রতিদিনের মেলা মঞ্চের আলোচনা-সেমিনার, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, গান, আবৃত্তি, নৃত্যসহ সবকিছুই আবর্তিত হবে বঙ্গবন্ধুকে কেন্দ্র করে।

এবারের বইমেলায় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে শুধু বাংলা একাডেমিই ২৬টি বই প্রকাশ করছে। এছাড়া জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আগামী দুই বছরে মোট ১০০টি বই প্রকাশ করবে একাডেমি।

বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রায় আট লাখ বর্গফুট জায়গাজুড়ে মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথমবারের মতো লিটল ম্যাগ কর্নার নেয়া হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। শিশু চত্বরের আয়তনও বাড়ছে। মেলায় এবার যুক্ত হচ্ছে ফুড কোর্ট। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশের দুই প্রান্তে প্রতিটি ফুড কোর্টে ২০টি করে খাবার দোকান থাকবে।

এবার একাডেমি প্রাঙ্গণে ১২৬টি প্রতিষ্ঠানকে ১৭৯টি ইউনিট ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৩৪টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৯৪টি ইউনিটসহ মোট ৫৬০টি প্রতিষ্ঠানকে ৮৭৩টি ইউনিট এবং বাংলা একাডেমিসহ ৩৩টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ৩৪টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

এবার বইমেলায় আসা বই ‘মনিটরিং’ করতে থাকছে ‘মনিটরিং কমিটি’। মেলার নিরাপত্তায় থাকছে তিনশর বেশি সিসি ক্যামেরা। এবার দেড় হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। সেই সঙ্গে আনসার সদস্যের সংখ্যাও বেড়েছে। প্রতিটি বুক স্টলে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

টিএসসি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও একাডেমির উল্টো দিকের কালী মন্দির এবং তিন নেতার মাজারের পাশ দিয়ে রাখা হয়েছে প্রবেশ ও বহির্গমন পথ রাখা হয়েছে। এছাড়া মেলা ঘিরে অস্থায়ী দোকান, হকার উচ্ছেদ, ধুলাবালূ নিয়ন্ত্রণ ও বৃষ্টি হলে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও করোনাভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকতে বিশেষ ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলা একাডেমি।

জেআর/