সিলেট নগরীতে যাত্রীদের ভোগান্তি

খোলা জানালা

মুহাম্মদ আব্দুল হামিদ

দীর্ঘদিন থেকে নিজেদের ইচ্ছামত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন সিএনজি চালকরা। ১০/১৫ টাকার জাগায় ২৫ থেকে ৩০ টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। উদাহরণত আগে মেজরটিলা থেকে বন্দরবাজারের ভাড়া ছিলো সিএনজিতে ১৫ টাকা। এখন ভাড়া দিতে হয় ২৫ থেকে ৩০ টাকা। এভাবে সিলেটের প্রত্যেকটি রোডে চলাচলকারী অটোরিকশা চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার অভিযোগ রয়েছে। আগে মেজরটিলা থেকে বন্দরবাজার যেতে সময় লাগতো ১০ থেকে ১৫ মিনিট। আর এখন রাস্তার বেহাল দশা ও যানজটের কারণে সময় লাগে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট।

অতিরিক্ত ভাড়া ও অপ্রত্যাশিত সময়ক্ষেপনের পরেও শহরের লোকজন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য সঠিক সময়ে গাড়ী পান না। সন্ধ্যার দিকে দেখা যায়, বাড়ী ফেরা শত শত মানুষ শহরের মোড়ে মোড়ে ভীড় করেন আর সিএনজি চালকরা গাপটি মেরে বসে থাকেন যেন তাদের কানে কারো কোন কথা ঢুকে না। তারা তাদের ইচ্ছামত জায়গায় মনমতো ভাড়ায় যাওয়ার জন্য অপেক্ষায় থাকেন। এতে করে গাড়ীর অভাব না থাকলেও যাত্রীদের জন্য গাড়ীর তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়।

একদিকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় আর অন্যদিকে কৃত্রিম গাড়ির সংকট সৃষ্টি করা হয়। এতে করে ঘন্টার পর ঘন্টা সাধারণ যাত্রীরা গাড়ির পেছনে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। সিলেট নগরীকে সিএনজি অটোরিকশার শহর বলা হয়ে থাকে। কেননা এ শহরে অন্যান্য গাড়ীর তুলনায় সিএনজির সংখ্যা অনেক বেশী। নগরীর অলিগলির দিকে তাকালে প্রথম যে গাড়িটি দেখা যায়- তার নাম সিএনজি অটোরিকশা। দাপুটে চলা এসব সিএনজির কাগজ ও ফিটনেস যাচাই করা হলে হয়তো-বা বেশীর ভাগেরই বৈধতা পাওয়া যাবে না। পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী নগরীতে অবৈধ সিএনজির সংখ্যা দশ হাজারেরও বেশী। আইন অনুযায়ী সিএনজি অটোরিকশার সামনের দিকে গ্রীল লাগানো থাকবে এবং যাত্রী তিনজন বহন করবে। কিন্তু সিলেট নগরীর সিএনজিগুলোর সামনে গ্রীল নেই, যাত্রী বহনের ক্ষেত্রেও মিয়মনীতি মানতে দেখা যায় না। আর ভাড়া আদায়ের কথাতো বলাই বাহুল্য।

অনেকেই মনে করেন, সিলেট শহরে অতিরিক্ত সিএনজির কারণেই যানজট সৃষ্টি হয়। তাছাড়া যেখানে-সেখানে স্টেন্ড ও যাত্রী উঠানো-নামানো ইত্যাদি কারণেও যানজট সৃষ্টি হয়ে থাকে। এক দিকে যানজট আর অপর দিকে বিভিন্ন সড়কের জীর্ণ দশা। এই দুইয়ে মিলে নগরীতে দশ মিনিটের পথ যেতে ঘন্টা খানেক সময় লাগে। এতে করে অফিস, স্কুল, কলেজসহ জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষের অতিরিক্ত সময়ক্ষেপন হয়। যে কারণে অনেকেই মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হন।

সিলেট নগরীতে “নগর এক্সপ্রেস” এর কিছু মিনিবাস চালু আছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই কম। সাধারণ মানুষের দূর্ভোগ লাঘবে আনফিট অবৈধ সিএনজি কমিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ মিনিবাস চালু করা প্রয়োজন। সুন্দর নীতিমালার মাধ্যমে মিনিবাস সার্ভিস চালু করা হলে যানজটের তীব্রতাও কমে আসতে পারে। পথের জটে আটকে থেকে অতিরিক্ত সময়ক্ষেপন ও ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া থেকে নগরবাসী কিছুটা হলেও রেহাই পেতে পারে।

সিলেট শহরে নানারকম উন্নয়ন কাজ চলছে বহুদিন থেকে। তা অবশ্যই সিলেটবাসীর প্রত্যাশিত ও প্রসংশনীয়। তবে এসব উন্নয়ন কাজ যেন শেষ হতে চায় না। দুই তিন কিলোমিটারের কাজ শেষ হতে দুই তিন বছরের মত সময় লাগতে দেখা যায়। টিলাগড় থেকে বন্দরবাজার মাত্র তিন কিলোমিটারের মত দূরত্ব। এই সামান্য পথে উন্নয়ন কাজ চলছে বিগত দুই/তিন বছর থেকে। উন্নয়ন কাজে ধীরগতির কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। কত মানুষ উন্নত সিলেট দেখার আশায় বুক বেঁধেছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন পরেও উন্নয়ন কাজ শেষ না হওয়ায় তাদের আশা অপূর্ণ থেকে যাচ্ছে। উন্নয়ন কর্মকান্ডে অতিরিক্ত সময়ক্ষেপন করা মারাত্মক দূর্ভোগের কারণ; যা নগরবাসীর কাম্য নয়।

তাছাড়া সিলেটের প্রধান সড়কগুলো খানা-খন্দে ভরে গেছে। বিশেষকরে টিলাগড় থেকে বন্দরবাজার ও টিলাগড় থেকে আম্বরখানা সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। এসব সড়ক দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *