সুনামগঞ্জের হাওরে বাড়ছে পানি

সারাদেশ

ভয়েস টাইমস:সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি কমলেও বাড়ছে হাওরের পানি। জনভোগান্তি থেমে নেই। জেলার সবকটি উপজেলার সাথে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়নি এখনো।জেলার দোয়ারাজার, ছাতক,জগন্নাথপুর, দিরাই-শাল্লায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।দিরাই-শাল্লা ও জগন্নাথপুরে পানি বাড়ছে। সুরমা, কুশিয়ারাসহ পার্শ্ববর্তী নদ-নদীর পানি তীব্র গতিতে হাওরে প্রবেশ করছে।হাওর পাড়ের অনেক বাড়ি বানের পানিতে তলিয়ে গেছে।

দিরাই-শাল্লাসহ সুনামগঞ্জের বড় বড় হাওর বেষ্টিত উপাজেলার হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী।দিরাই,জগন্নাথপুর, ছাতক, দোয়ারাবাজারসহ বিভিন্ন উপজেলায় আশ্রয়কেন্দ্রের বড় সংকট রয়েছে।যাদের ঘর-বাড়িতে পানি উঠছে, অপর্যাপ্ত আশ্রয় কেন্দ্রের কারণে মানুষ নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে,অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেল থেকে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ৩৩ সে: মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। নদীর পানি কমে আসায় স্বস্তি প্রকাশ করছেন সুনামগঞ্জ শহরের মানুষ। তবে নিম্নাঞ্চলের উপজেলার মানুষ অস্তিত্বে আছেন।

বাসা বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় রাত্রি যাপন ও পয়নিস্কাশনে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। উপজেলায় উপজেলায় সড়ক পথে ও হাট-বাজারে যাতায়াতে তীব্র কষ্টে রয়েছে বন্যার্ত মানুষ। স্থানীয়রা বলছেন, বৃষ্টি কমায় ও রোদ উঠায় পানি নেমে যাচ্ছে। তবে এ পানি গিয়ে ধাক্কা লাগছে নিম্নাঞ্চলে। ফলে নিম্নাঞ্চাল এখনও প্লাবিত রয়ে গেছে। আরও ২/১দিন আকাশ ভাল থাকলে বন্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব বলে তারা মনে করেন।

এদিকে ১১টি উপজেলায় ১৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এবং সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন ১১৪৩ মানুষ। তারা এখনও আশ্রয় কেন্দ্রে রয়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাবিবুর রহমান জানান, সুরমা নদীর পানি অনেকটা কমেছে। তবে নিম্নাঞ্চলের মানুষ এখনও প্লাবিত রয়ে গেছেন। ২/১ দিন আবহাওয়া ভাল থাকলে বন্যার্তরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন।