হুব্বে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্থায়ীভাবে ধরে রাখতে কিছু পরামর্শ

ইসলাম মতামত

আবদুল্লাহ আল মনসুর

একজন সাহাবী রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করলেন কিয়ামত কবে হবে?
রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কিয়ামতের জন্য কী প্রস্তুতি নিয়েছো?

সাহাবী বললেন, আমার তেমন কোনো প্রস্তুতি নাই।তবে একটা প্রস্তুতি আছে, আমি আল্লাহ ও তার রাসূলকে ভালোবাসি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
أنت مع من أحببت
‘তুমার হাশর তো তার সাথেই হবে, যাকে তুমি ভালোবাসো’। (সহিহ বুখারি)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসা স্থাপন স্বতন্ত্র একটি ইবাদাহ। এটি ঈমানের অংশ। পরকালে মুক্তির মাধ্যম।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন,
لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ، وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ
‘তোমাদের কেউ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তোমাদের মা, বাবা, দুনিয়ার সকল মানুষের চেয়ে প্রিয় হই’ (সহিহ বুখারী)।

সম্প্রতি ফ্রান্সের একটি পত্রিকায় আমাদের কলিজার টুকরা বিশ্বনবী মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অবমাননা করে কার্টুন ছাঁপায়। ফ্রান্স সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে সেটাকে প্রচার করে।

এরই প্রতিবাদে সারাবিশ্বে মুসলমানদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। নবীপ্রেমিক লক্ষ লক্ষ জনতা নেমে আসে রাস্তায়।
শুরু হয় প্রতিবাদ, প্রতিরোধ। ব্যক্তি জীবনে ইসলাম চর্চা না করা ব্যক্তিও নবীপ্রেমের নজরানা পেশের জন্য বেরিয়ে আসে রাস্তায়। আলহামদুলিল্লাহ, এটি আশাজাগানিয়া।

রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবমাননা এটি নতুন কিছু নয়। যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। দুঃখের বিষয় হলো, যখনই বিশ্বের কোথাও এমন ঘটনা ঘটে, তখনই সারাবিশ্বের মুসলিম দের মাঝে একটা জাগরণ সৃষ্টি হয়। কিন্ত কিছুদিন পরই সেটা আবার স্তিমিত হয়ে যায়। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসা ঈমানের অংশ। যা সার্বক্ষণিক ধরে রাখা ফরয।

কীভাবে হুব্বে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধরে রাখবেন, এরজন্য কিছু পরামর্শ:

১. প্রতিটি কাজ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত অনুযায়ী আদায় করুন।
কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেন,

তোমাদের জন্য তোমাদের আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।

সুন্নাহ অনুযায়ী কেউ যদি দুনিয়াবি কাজও করেন, তাহলে সেটা ইবাদাতে পরিণত হয়ে যায়।

২. বেশি বেশি দুরুদ শরীফ পড়া।
রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিন আমার সবচেয়ে বেশি নিকটবর্তী থাকবে, যে বেশি বেশি আমার উপর দুরুদ পাঠ করেছে।
তাছাড়া একবার দুরুদ পাঠ করলে ১০ টি রহমত নাযিল হয়। দশটি গুনাহ মাফ হয়। ১০ টি মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

৩. ফ্রান্স এর সকল পণ্য বর্জন অব্যাহত রাখা আজীবন। ব্যাপক হারে এরজন্য প্রচারণাও চালু রাখা।

৪. হুব্বে রাসূলের মাসয়ালায় ইসলামের সকল দল, উপদল একমত। তাই সকল মুসলমানের মাঝে বৃহত্তর ঐক্য সাধনে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

৫. বেশি বেশি সীরাত গ্রন্থ পাঠ করুন। সীরাত সেমিনার আয়োজন করুন। তাতে অংশ নিন।
ছোট ছোট বাচ্চাদের মাঝেও সীরাতের আলো ছড়িয়ে দিন।

৬. সর্বোপরি বিশ্বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনিত খেলাফত শাসন ব্যবস্থা কায়েমের প্রচেষ্টা কে জোরদার রাখা।

আবদুল্লাহ আল মনসুর
লেখক:কলামিস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *